পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জ্যোতিরিঙ্গণ &ግግ —তাহলে তো বঁচিতাম। মাইনে যখন কম ছিল, তিন নম্বর বাসায় ছিলাম ন বছর। ছু নম্বর বাসা আপনি যদি দেখতেন, তবে না-জানি কি বলতেন ! সেই ছ নম্বর বাসায় এক বছর। আমি মনে মনে কল্পনা করলুম সামান্ত দু এক শ টাকার জন্যে এই ভদ্রলোক কত জ্যোৎস্নাময়ী দুপুররাত্রির রহস্ত, কত বর্ষার ঝর-ঝর ছন্দ, কত সজনে-ফুল-ফোটা কোকিল-ডাকা ফাঙ্কনদিন, কত মধুর অপরাহ্ল হারিয়েছেন। শুধু ইনি যে এক হারিয়েছেন তা নয়, এর বাড়ীর ছেলেমেয়ের হারিয়েছে তাদের জীবনের অতি রহস্যময় বাল্যদিনগুলির পরম পবিত্র মুহূৰ্ত্ত, হারিয়েছেন এর স্ত্রীও । তার চেয়েও কষ্ট এই যে, এরা জানেন না যে এরা কি হারিয়েছেন— সেই কি যেন একটা জিনিসের বিজ্ঞাপনে যেমন ছবির নীচে লেখা থাকে। বললাম–ছুটি পেয়ে দেশে যান ক বার ? —ক বার ? মাত্র দুবার দেশে গিয়েছি এই ক বছরের মধ্যে। আপনা-আপনি আমার অজ্ঞাতসারে আমার মুখ দিয়ে বেরিয়ে গেল—বড় কষ্ট আপনাদের ৷ তিনি তখুনি বললেন—না, এর চেয়েও কষ্ট তাদের, যারা নতুন আসে। বাসা পেতে আগে লগত সাত-আট বছর—এখন লাগে তের-চোদ্দ বছর। —কোথায় থেকে চাকরি করবে সে বেচারী ? —গাছতলায়। তা কোম্পানি কি জানে। চাকরি করতে হয় কর । বাসার খবর কোম্পানি রাখে না। অথচ এই খড়গপুর শহরে কোনও বাসা ভাড়া পাওয়া যায় না । কেন না, এখানে বাইরের কোন লোকের ঘর নেই, সবই রেলের কোয়ার্টার । —সত্যি এ ব্যাপার ? —খুব সত্যি । --তারা থাকে কোথায় ? —--ওই হয়তো আপনার একখানা ༈༽“ ঘর আছে, সেখানে একটু জায়গা দিলেন। নয়তো কোন অবিবাহিত লোকের কোয়ার্টারে রইল। অবিবাহিত লোকের কোয়ার্টারে খুব ভিড় হয়। নতুন চাকরে অবিবাহিত যুবকেরা হার্ড গদার ভেড়ার গোয়ালেরও অধম । নিয়ে যাব আপনাকে তেমনি এক বাসায়। “ আর একজন কে বললেন—আর একবার আপনাকে নিয়ে যাব এক নম্বর ছ নম্বরে। দেখবেন লে কি জিনিস। মানুষের বাস করবার জন্যে সেগুলো তৈরি হয় নি। কোন এনজিনিয়ার সেগুলো তৈরি করেছিল, তার কি নিজের বাড়ীতে স্ত্রীপুত্র ছিল না ? এসব কথার উত্তর ভগবানই দিতে পারেন । - সেই আর একজন ভদ্রলোক বললেন—আপনাকে নিয়ে যেতে হবে আর এক জায়গায়। শহরের দক্ষিণে। সেখানে যতসব অফিসারদের কোয়ার্টারস। দেখে অবাক হয়ে যাবেন। चर्गं ।