পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/২৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জ্যোতিরিঙ্গণ ২৭৯ না । আয়োজন বেশ ভালই। নিন্দে করবার কিছুই নেই। খুব ভাল আয়োজন । বেরিয়ে আসছি, এমন সময় ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ কে একটি ছোকরা এসে আমার পরের গুলো নিয়ে প্রণাম করলে। মুখ তুলতেই দেখলাম সে আমাদের গ্রামের হীরু জেলের ছেলে কানাই। কানাই ম্যাট্রিক পাশ করে আগে পূৰ্ব্ববঙ্গে কোথায় যেন রেলে চাকরি করত। বললাম—এখানে কাজ কর নাকি ? —ই্যা | পাকিস্তান থেকে চলে এসেছি, ঈশ্বরদি ছিলাম। আপনাকে মা ডাকছে—ওইখানে দাড়িয়ে— —তোমার মা ! এখানে ? খুব অবাক হয়ে গেলাম। কানাই জেলের মা চিরদিন পাড়ায় চিড়ে কুটে, ধান সিদ্ধ করে ও । মাছ বিক্রি করে সংসার চালিয়ে এসেছে। অজ পাড়াগায়ের মেয়ে ও বেী সে। চিরদিন দেখে এসেছি জ্যৈষ্ঠ মাসে আম কুড় বার জন্য খুব ভোরে উঠে সে গ্রামের পেছনের বড় জঙ্গলে-ভৰ্ত্তি জামকঁঠালবাগানে আম কুড় বার জন্যে যেত, আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি পর্য্যন্ত রোজ তাকে দেখা যাবেই আমবাগানে গভীর কাটাবন ও লতাপাতার জঙ্গলের মধ্যে ঢুকে বাদুড়ে থেকে আম কুড়িয়ে বেড়াচ্ছে । জ্যৈষ্ঠ মাসের শেষেই পল্লীগ্রামের দেশী আম শেষ হয়ে যায়, আষাঢ় মাসের মাঝামাঝি পৰ্য্যস্ত ওকে আম কুড়তে দেখে আমার হাসি পেত। আমার বাড়ীর ওপর দিয়েই ওর আম কুড়িয়ে ফেরবার রাস্তা। পাড়াগায়ে যেমন হয়, এক বাড়ীর উঠোন দিয়ে অপর বাড়ীর লোকে যাতায়াত করে। ও যখন ফিরত, তখন ওকে বলতাম, ও কানাইয়ের মা, কি আম কুড়লে ? কানাইয়ের মা চুপড়ি দেখিয়ে বলত—আম আর কই দাদাঠাকুর । এই দেখুন— প্রায়ই খেয়ো বাছুড়ে-খেকো আম দু একটা ছাড়া দেখতাম না । ও আবার এত ভাল, যেদিন একটাও ভাল আম পাবে, সেদিন আমাকে বলত—এই আমট আপনার জন্তি দিয়ে যাই । রাখুন। আমি বলতাম—-না না, তুমি शांé3--- ও শুনবে না, ঠিক দিয়েই যাবে। গ্রামের মধ্যে সকলেই বলত, কানই জেলের মা বড় সং। কখনও কারও সঙ্গে ঝগড়া করে নি। মাছ বিক্রির সময় ওর সরলতার স্থযোগ নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়ার ঘুঘু গিল্পীরা ধারে মাছ নিত, ছ মাস ঘুরিয়েও পয়সা দিত নী—অবশেষে হয়তো পয়সা মেরে দিত। কখনও কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ ওর ছিল না, আবার ধার চাইলে, ছমাস ঘুরিয়ে যে কাল পয়সা দিয়েছে, তাকেও আজ আবার মাছ দেবে। আমাদের পাড়ার রাম চাটুজ্যের ছেলে জেলি পিতৃহীন দরিদ্র অবস্থায় কোন রকমে নিজের চেষ্টায় ম্যাট্রিক পাশ করে রেলে কি একটা চাকরি পেয়েছিল। জেলির মা একা থাকতেন ৰাড়ীতে, বাড়ীর সামনের ডোবায় হয়তো সকালে কানাইয়ের মা বাসন মাজতে এসে দেখলে বামুলপাড়ার ঘাটে (একটা ছোট ডোবার আবার তিনটে ঘাট!) জেলির মা বড়ি দেওয়ার