পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


रैॐ e - বিভূতি-রচনাবলী এত কষ্ট করে দু ভলুমি উপন্যাস লিখে কোন সার্থকতা আসবে ওর জীবনে ? আমি জানি কোন প্রকাশকই হঠাৎ তো ওর মত অজানা লেখকের উপন্যাস ছাপতে চাইবে না, ভাল হলেও না। ওর লেখক হওয়ার আশা আকাশ-কুমম, যেমন আকাশ-কুস্কম ওর বিলেতে যাওয়ার আশা ও আকাজক্ষা | লাইব্রেরিতে ফিরে-গেলাম । সেখানে দু-একজন তখনও বসে ছিল । একজন বললে, পাগলট চলে গেল? আচ্ছা ভ্যাজোর ভ্যাজের আরম্ভ করে দিয়েছিল আপনাকে নিয়ে সন্ধ্যের সময় । —কে পাগল ? —আরে ওর মাথায় গোলমাল । জানেন না ? সেই জন্যেই ওর বাবা ওকে কোথাও বেরোতে দেন না । কেবল বলে, বিলেতে যাব, এখানে যাব ওখানে যাব | সৎমা বড় কড়া, ওকে ঠিক শাসনে রেখেছে । ওর নামই হল পাগলা যতীশ, ভীষণ ছিট-গ্রস্ত—ওর বাবা সেদিন বড় দুঃখ করছিলেন ইষ্টিশান মাস্টারের কাছে । বলছিলেন, এত আশা করে ছেলেকে লেখাপড়া শিখিয়েছিলেন বিয়েও দিয়েছিলেন ছেলেও বি এ পাশ, অথচ সব কিছুই গোলমাল হয়ে গেল । সত্যি তো । ছেলে হল, সে ছেলে শিক্ষিত হল, বিয়েও করলে । সে ছেলে ভাবুক, কবি, মার্জিতরুচি, অনেক কিছু জানে, অনেক কিছুর খবর রাখে। তবে কিসের অভাবে সে সংসারের বোঝা হয়ে দাড়াল আজ ? এর উত্তর কে দেবে ? কেন এমন হয় কি জানি । থনটন কাক৷ রজনীবাবুদের ল্যান্সডাউন রোডের বাড়ীতে সেদিন ছোটখাটো একটা সাহিত্যিক বৈঠক ছিল। তর্ক, আলোচনা ও প্রচুর খাওয়া-দাওয়ার মধ্যে সন্ধ্যা বেশ ভালই কাটল। রজনীবাবু বর্তমান সাত-আটটা বড় কয়লাখনি, বদ্ধমান জেলার জমিদারি ও সিংতুম জেলার শালবন ও মৌজার মালিক ; এসব বাদে কলকাতায় বাড়ী জমি তো আছেই নানাস্থানে । রজনীবাবু বললেন—বন্ধন, বন্ধন । বেশি রাত হয় নি এখনও । পৌছে দেব এখন গাড়ীতে । একটা গল্প বলি —আমার তখন বয়েস ন বছর । আমাদের বাড়ী বর্ধমান জেলার বনপাশ স্টেশন থেকে দু ক্রোশ দূরে একটা ক্ষুদ্র গ্রামে। গ্রামের বাইরে অবধি মাঠ, শুধুই ধান হয় সে মাঠে, মাঠের মাঝখানে বড় বড় তালগাছে ঘেরা সেকেলে দীঘি, তার নাম ‘গলাকাটা পুকুর’ । বহু আগে যখন ওসব দেশের ওইসব তেপান্তর মাঠে নিৰ্ব্বান্ধব পখিকদের গলা কেটে ডাকাতের লাশ বেমালুম দীঘির জলে পুতে রাখত, তখন থেকে ওই নামে চলে আসছে দীঘিট ।