পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


३38 বিভূতি-রচনাবলী পড়তে পার ? এ বোধ হয় সাহেবের চিঠি । থনটন কাকাকে চিঠিখানা দিলাম। চিঠিখান পেয়ে হঠাৎ ওর মুখ কেমন হয়ে গেল । সেখানেই খুলে পড়ল। পড়ে কি সব বলতে লাগল ইংরিজিতে । আর নড়ে না, ওঠেও না। কখনও আপনমনে হাসে, কি বিড়বিড় করে বলে । রাতে বাবার কাছে শুনলাম থর্নটন কাকা অনেক টাকা পাবে বিলেতে। ওর এক খুড়ী না পিসি ছিল, সে মারা গিয়েছে, ও তার সম্পত্তি পেয়েছে। বিলেতের উকিলেরা চিঠি লিখেছে। মাসখানেকের মধ্যে থলটন কাকা দেশে চলে গেল । তার পর যে কথাটা বলবার জন্যে এ গল্পটার অবতারণা সেটা এখন বলি । যাবার কিছুদিন আগে থৰ্নটন কাক বাবাকে বললে—আমার তুমি অনেক উপকার করেছ, তোমার একটা উপকার আমি যাবার সময় করব । আমার সঙ্গে একজায়গায় চল, রেলে যেতে হবে । বাবা গেলেন । বরাকর নদীর কাছাকাছি কোন একটা পাহাড়ের তলাকার শালবন আর লাল র্কাকুরে মাটির ভাঙা দেখিয়ে সাহেব বলেছিল বাবাকে—সমস্ত বাংলাদেশের কয়লার ক্ষেতের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর কয়লা আছে এই জমির তলায় । আমি মাইনিং এঞ্জিনিয়ার, আমি নিজে পরীক্ষা করে দেখেছি। কেন আমি তোমাদের বাড়ী গিয়েছিলাম, কেন এমন অবস্থায় পড়েছিলাম, সে কথা তোমাকে জানাব সময় মত । এখন আমার পরামর্শ, এই জমি বন্দোবস্ত নাও, কিংবা কেনো । কেউ জানে না এর তলায় কি অমূল্য সম্পদ লুকানো। আমার কথা অবিশ্বাস ক’রো না । একদিন ভেবেছিলাম নিজে আমি এই জমি কিনে নেব বা বন্দোবস্ত নেব। কিন্তু অবস্থার ফেরে তা আমার ঘটল না। তার জন্যে দুঃখিত নই। তুমি আমাকে নিজের ঘরে নিজের সহোদর ভাইয়ের মত স্থান দিয়েছিলে, তার খানিকট প্রতিদান দিতে পেরে আমি খুশী হয়েছি। আমার কথা শোন, বড়লোক হয়ে যাবে। বীণার বিয়েতে যৌতুক দিলাম এই জমি । কাউকে এসব কথা বলবে না। ঘূণাক্ষরেও না । তা হলে সব যাবে । বাবা বাড়ী এসে মার গহনা বিক্রি করে টাকা নিয়ে আবার চলে গেলেন বরাকরে । সন্ধান নিয়ে জানলেন নিকটবর্তী পালনডি মৌজার ডিহি পাঁচপুর কাছারির জমিদার গঙ্গারাম মাহাতোর দু-আনি অংশের জমি ওটা। কলকাতার গৌরমোহন পাল দিগর বর্তমান মালিক । গেলেন কলকাতায় জমিদারের বাড়ী । গৌরমোহন পাল দিগরের নায়েবকে কুড়ি টাকা ঘুষ দিলেন । নায়েব নক্সা ও কাগজপত্র দেখে বললে--এ জমি বহুকাল থেকে পতিত। এ আপনি কি করবেন ? - নায়েবের স্বরের মধ্যে যেন সন্দেহের রেশ রয়েছে। বাবার বুক কেঁপে গেল। মনের অগোচর পাপ নেই। বাবা বললেন—চাষ-বাস করব।