পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩১৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জ্যোতিরিঙ্গণ Red যু নায়েব হেসে বললে—সে কি মশাই ? পাথুরে ডাঙায় কি চাষ হবে ? চাষের জমি ইলে এতকাল ৪ জমি পতিত থাকে ? তা ছাড়া ওর ত্রিসীমায় জল নেই। কিসের চাষ করবেন ? —গরুমহিষ পুষব, চাষ করব, বাসও করব, সব রকমেই— নায়েব চোখ মিটকি মেরে বললে—আমায় কি দেবেন ? —কেন গরিবের ওপর জুলুম করবেন ? আপনাকে খুশী করব । —কত ? —এক শ টাকা । —না | ওতে হবে না । —দেড় শ ? -नां | --কত বলুন ? —দশ হাজার টাকা। পাঁচ বছর পরে । নগদ দিতে হবে না। লেখাপড়া করুন। এর কলকাতার বড়লোক, এরা কি জানে মশাই, আমি আন্দাজে বুঝেছি। তবে আপনাকে নগদ দিতে হবে না। একটি কর্জনামার খত রেজিষ্ট্রি করা থাকবে। বুঝলেন ? যেন আপনি দশ হাজার টাকা ধার নিলেন আমার কাছ থেকে । —সে হবে না। রেজিস্ট্রার টাকার লেনদেন নিজের হাতে করবে। দশ হাজার টাকা কে দেবে ! —তার ব্যবস্থা হবে। সব রোগেব ওষুধ আছে। জমি রেজিষ্ট্রি হয়ে গেল । তবে আমরা জমিদারকেও ফাকি দিই নি। এখন সে জমির আয় বার্ষিক নিট, দেড় লক্ষ টাকা । জমিদারের নাবালক ছেলেকে আমরা দু হাজার টাকা ফি বছর দিই। আমাদের যা কিছু দেখছেন, সব সেই পালনডি কয়লার খনি থেকে। এখন আমাদের দশট কোলিয়ারি, কোনওটাই কিন্তু পালনডির মত নয়। পালনডি লক্ষ্মীর বাপি। থর্নটন কাকার ছবি দেখবেন ? চলুন পাশের ঘরে । .না, আসল ছবি বা ফটো নয়। আর্টিস্টকে দিয়ে আঁকিয়েছি। আমি চেহারার বর্ণনা দিয়েছিলাম অবিপ্তি যতটা মনে ছিল । রজনীবাবু গল্প শেষ করলেন । বললেন–চা খান আর একবার। আমি বললাম—সাহেবের আর কোন খবর পান নি ? —কিছু না। আমার মনে হয় বিলেত যাওয়ার পথেই মারা গিয়েছিল। নইলে অন্তত বীণা দিদির খবর সে নিশ্চয় নিত। চলুন থর্নটন কাকার অয়েল পেটিং দেখাই। থর্নটন কাক ভাঙা লোহার সানকিতে ভাত খাচ্ছে, এই ছবিটাই আঁকিয়েছি। আম্বন এই ঘরে।