পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩১৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R3dbr বিভূতি-রচনাবলী পয়ঃপ্রণালী দিয়ে। কে যে কার প্রাণদণ্ড দিত, তা বোঝবার কোন উপায় নেই—সম্ভবত পুরনো প্রাকৃবৃটিশ যুগের কোন বন্ত রাজা । টেড়াপানি ছাড়িয়ে দু রশি গিয়েই সারোয়া পাহাড়ের চড়াই শুরু হল ক্রমোচ্চ বনপথের মধ্য দিয়ে। এই বর্ষাকালে ছোটখাটাে ঝরনা কুলকুলু রবে এদিক-ওদিক থেকে সরবে নেমে আসছে, দ্রোণঘাসের ফুল ফুটেছে, যে ফুল তীরের মত বিধে যায় কাপড়ে। এ পাহাড়ে বড় গাছ অনেক বেশি, চড়াইয়ের পথ দুর্গমতর। কিন্তু শোভা সবচেয়ে চমৎকার। উচ্চতা এত বেশি যে, এখানে চড়াইয়ের মাথা থেকে বহু দূরে টাটানগরের ডালমা পাহাড় চোখে পড়ে। চারিধারেই ঢেউখেলানো পাহাড়শ্রেণী, কোথাও উচু কোথাও নীচু—দূরে দূরে পাহাড়গুলো ঘননীল, কালো মেঘের পটে ছবির মত । একজন বুড়ো কাঠুরে লুদাম গাছের কাঠ কাটছে পাহাড়ের মাথায়। তার পরনে ইঞ্চি-দুষ্ট চওড়া কাপড়ের কোঁপান মাত্র। জিজ্ঞেস করা গেল—কি নাম রে ? —গল্প সর্দার । —বাড়ী কোথায় ? —টেড়াপানি । —তোর বয়েস কত ? —কি জানি বটেক । —পঞ্চাশ হয়েছে ? —পঞ্চাশ হতে পারে, ত্রিশ হতে পারে । —কি খেয়েছিস ? –নাই খাইল । —তবুও ? —সোধা চাল আর কুন। অর্থাং ভিজে চাল তুন দিয়ে খেয়েছে। এ সব বন্য দেশে আটা ছাতু প্রভৃতি খাদ্য একেবারে অচল। এরা ভাত ছাড়া আর কিছু বোঝে না। এমন কি তরকারি পর্যন্ত খায় না, হয়তে একটু শাকভাজা আর হুনের টাকনা দিয়ে এক বড় জামবাটি ভৰ্ত্তি পাস্তভাত দিব্যি মেরে দিলে। তাতেই এদের সবল স্বাস্থ্যবান পাথরের্কোদ চেহারা, ধন্তকবাণ নিয়ে বড় বাঘ ও বুনো হাতী আর ভীষণ বিষধর শঙ্খচূড় সাপের সামনে এগিয়ে যাবে নিৰ্ভয়ে। আর ভালুক ? সে তো এদের ধর্তব্যের মধ্যেই গণ্য নয় । সন্ধ্যের অন্ধকারে বাড়ীর আনাচে-কানাচে ঘোরে। আমাদের গাড়ীর একটি মেয়ে হাসতে হাসতে বললে—হঁ্যা গন্থ সর্দার, তোমার বয়েস পনের পৰ্য্যস্ত হয়েছে কি ? —তা হতে পারে বটে। —তাহলে বডড বয়েস হয়েছে তোমার ?