পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩১৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জ্যোতিরিাণ 3ээ —হঁ্য, রেলটা বসল চাইবাসাতে, তখন আমি কাড়া চরাই আঞ্জে। তুমি আগুন দিলি ? -कि ? আমি বুঝিয়ে বললাম গনু দেশলাই চাইছে । পিকা খাবে। পিকা অর্থাৎ কাচা শালপাতায় জড়ানো তামাকের পাতা ; বিড়ির আকারের বটে, তবে আধহাত লম্বা । বাজারের বিড়ির চেয়ে পিকা খেতে অনেক ভাল লাগে। এই সব বন্য অঞ্চলের কোন লোকই বাজারের তৈরি বিড়ি কিনে খায় না । জিজ্ঞেস করলে বলে—উ উদাস লাগছে রে । এবার সারোয়া পাহাড় থেকে পথ নামল । ঐ পথটা আগের পাহাড়ের উৎরাইয়ের মত অতটা ঢালু নয়। অর্থাৎ রাস্তাটা দিয়ে আরোহী-বোঝাই গরুর গাড়ী নিয়ে নাম একটু বিপজ্জনক। নামবার রাস্তার একপাশে খাদ বেশ গভীর। গরু যদি ভয় পেয়ে একট এদিকওদিক নিয়ে যায় তবে ঐ খাদে আরোহী-পূর্ণ গাড়ীর সমাধি স্বনিশ্চিত । ঢালু পথটা যেখানে সমতলে এসে মিলল, সেখানেই কালচিতি গ্রাম। অর্থাৎ সারোয়া পাহাড়ের এপারে টেডাপানি আর ওপারে কালচিতি, মাঝখানে পাহাড়টা দাড়িয়ে । এই গ্রামটা এদিকের মধ্যে বড় ; অনেক ঘর লোকের বাস, এদের মধ্যে অনেক বাঙালী অধিবাসীও আছে । বাঙালী অধিবাসীদের পূর্বপুরুষ বহুকাল আগে বাকুড়া বা মেদিনীপুর জেলা থেকে এসে এখানে বাস করেছিল। এই বনাঞ্চলের পরিবেশের মধ্যেও এরা নিজেদের বৈশিষ্ট্য ঠিক বজায় রেখে চলেছে। আমরা নারান ঠাসদার বাড়ী গিয়ে উঠলাম । খড়ের বাড়ী, মাটির দেওয়াল, মাঝখানে বড় একটা চওড়া ঘর, তার চারপাশে কুঠুরি, শালকাঠের দরজা জানালা । কোথাও চুন সিমেন্টের বালাই নেই। নারান ইসদার মুখে শুনলাম এ ঘর অন্তত সত্তর বছর আগে তৈরি, অথচ মাঝে মাঝে নতুন ছাউনি দেওয়া ছাড়া অন্য বিশেষ কোন খরচ নেই এর পেছনে । নারান হাসদার বাড়ীর মেয়েরা এগিয়ে এসে গাড়ী-থেকে আমাদের বাড়ীর মেয়েদের নামিয়ে নিয়ে গেল । তাদের পরনে ফর্সা শাড়ী, গায়েও ব্লাউজ, এমনি অজ বন্ত গ্রামের মেয়েদের তুলনায় অনেক মার্জিত ও সভ্য, এদের কথাবার্তাও ভাল, খানিকট এ অঞ্চলের বুলি ও টান থাকা সত্ত্বেও ভাল বাংলা বলেই মনে হয় | & নারান হাসদ বাঙালী নয়, সাওতাল । ওদের বাড়ীট একটু বেশি ভাল, আসবাবপত্রও অনেক রকম আছে, কারণ ও গ্রামের প্রধান, অবস্থাও ভাল । নারান হাসদার মা এসে বললে—ঠাকরাইনরা, আসেন ঘরের মধ্যে । গরিবের ঘরে পা দিছেন, পায়ে জল দেন । আমি বাইরের ঘরে একটা চৌকির ওপর বসলাম । নারান হাসদার ভাই এসে তার ওপর একটা ভাল শতরঞ্জি পেতে দিয়ে গেল । এতটা পাহাড়ী রাস্তায় এসে শরীর খুব ক্লাস্ত হয়ে পড়েছিল। আমি গরুর গাড়ীতে বেশি উঠি নি, হেঁটেই এসেছিলাম গরুর গাড়ীর পাশে পাশে । বালতিতে ঠাণ্ডা জল ঝরনা থেকে