পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


VС)е о বিভূতি-রচনাবলী তুলে নিয়ে এল, হাত মুখ ধুয়ে ফেললাম, মাথাও ধুয়ে ফেললাম। শরীর স্নিগ্ধ হয়ে গেল। সারাদিনের পরে এখন হঠাৎ হলদে রোদ গাছপালার মাথায়, দূর পাহাড়ের মাথায় । বনকুস্কমের স্ববাসভর অপরাত্বটি বন্যবিহঙ্গের কলরবে মুখর। ওদের বাড়ীর সামনে মস্তবড় কুমুমগাছ, তার তলায় কাঠের আস্ত গুড়ি-চেরা ছালটের বেঞ্চি পাতা । সেখানটাতে গিয়ে বসলাম বিরবিরে পাহাড়ী হাওয়ায়। গ্রামটি বেষ্টন করে দূরে দূরে নীল পাহাড়মালা। অরণ্যের খামশোভা সারোয় পাহাড়ের সান্তদেশে, দু ফলং দূরে পাৰ্ব্বত্য নদীর ধারে ধারে । এ যেন রূপকথার গী—যেখানে : রূপকথার গায়ে জোনাকি-জলা বনের ছায়ে দুলিছে দুটি পারুল কুঁড়ি, তাহারি মাঝে বাসা । শহর থেকে অনেকদূরে, পাহাড়ী বনের ধারে, শাল আসান মহুল গাছের ছায়ায় লুকানো আছে রূপকথার গ্রাম । জ্যোৎস্নারাত্রে বনের ফুলের স্বাসে এদের কুটিরের বাতাস মদির করে তোলে, বাঘ-ভালুক উকি মারে আনাচেকানাচে, বনের মযর নৃত্য করে এমনি বর্ষার দিনে কুসুমগাছের ডালে ; খুব নিস্তব্ধ, শাস্তি ও নির্জনতায় ভরা দিনে এরা গান গেয়ে বেড়ায় গ্রামের মাঠে পথে । ঝরণার স্বচ্ছ জল তুলে আনে মুঠাম বনবন্ধুরা, কুরচি-ফুল-ফোটা পাষাণপথ বেয়ে রিক্তবৃন্ত করবীর বাকী ডালে মাংসল বটের, চাহ, তিক্তির পাখী উড়ে এসে বসে। শহরের লোকে এ গায়ের সন্ধান খুজে পায় না । নারান হাসদার ভাই এসে বললে—বাবু, চা দেব কোথায়? ঘরে আসবেন ? —এখানেই ভাল । বেশ ফাঁকা জায়গা গাছের তলায় । —পিকা বানাব বাৰু? বিড়ি-সিগারেট এখানে মেলে না। —চমৎকার হবে—বানাও । ঘটিতে চ এল আর এল তালের পরোট, গরম ভাজা মুড়ি, তালের ক্ষীর, মৰ্ত্তমান কলা, আর শসার কুচি কুন-নেবু মাখানো । যা কিছু সবই এ গ্রামের, কেবল পরোটার আট এসেছে বাইরে থেকে। অবিপ্তি চা-চিনিও । খাটি দুধের তৈরি তালের ক্ষীরটি অতি উপাদেয় হয়েছিল । নারান ইসদা বিনীতভাবে বললে—আমাদের ইস্কুল দেখবেন ? আমার মেয়ে সেখানে মাস্টার । যাবেন । —নিশ্চয়ই যাব ।--অlমার জানা ছিল ল| নারীন ইসিদার কোন মেয়ে আবার ইস্কুল মাস্টার । বললাম–কিন্তু এখনও স্কুল খোলা আছে ? বেল। তো বেশি নেই। —আপনি দেখতে যাবেন বলে খোলা রাখা হয়েছে । —সে কি ! এতক্ষণ বলতে হয় । চল চল ।