পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩২৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জ্যো डिब्रिऔ१ GaC) আর উপঢৌকন দিলে সঙ্গে চেড়ল, কুমড়ে, পাতিলেবু, বড় একছড়া মৰ্ত্তমান কল, গোটাচারেক পাকা তাল । সারোয় পাহাড়ের ওপরে যখন উঠেছি, তখন অস্তদিগন্তের মেঘের নীচে দূরের পাহাড়গুলো ক্রমে অস্পষ্ট হয়ে আসছে। একটা চমৎকার ওষধিগন্ধ উঠছে বনলতা গাছপালা থেকে । পাখীদের কাকলী-ধ্বনিতে অধিতাকার বনানী মুখর হয়ে উঠেছে। একটি পরিচিত পাখীর ডাক শুনে খুশী হলাম। সমতল বাংলাদেশের, বাশবনে, আমবনে, বৈঁচি-ঝোপের পাশে এ পাখী ডাকে । পাপিয়া । সারোয় পাহাড় থেকে যখন নামলাম, এপাশে টেডুাপানি গ্রামের কুটিরে কুটিরে তখন মাটির প্রদীপে মহুয়া বীজের তৈল ও বন-করনজার তৈলের মিটমিটে আলো । কেরোসিন তেল এসব দুৰ্গম বনাঞ্চলে আদৌ পৌছয় না আজকাল, তার ধারও এরা ধারে না। ডিবুডুংরি পাহাড়ের আগে সেই বনভূমির মধ্যে দিয়ে অতি সন্তৰ্পণে মশাল জালিয়ে গাড়িখানা চালাতে লাগল গাড়োয়ান বন্যহস্তীর ভয়ে । অন্ধকার খুব ঘন নয়, মেঘভরা জ্যোৎস্নায় পথ দেখতে কোন অস্ববিধে নেই। হঠাৎ দেখি সেই নির্জন বনপথে দুজন লোক আসছে। দুটিই মেয়েমানুষ । বললাম—বাড়ী কোথায় রে । —উই গায়ে বটে। —কোন গায়ে ? —টে ড্রাপনি । —এত রাতে কোথা থেকে আসছিস ? —হাটে গিয়েছিলেক, আবার কুথা থেকে আসব বটে। তা বটে। আজ কালিকাপুরের হাট, মনে ছিল না সে কথা । এই দুটি মেয়ে যদি এত রাত্রে এই বন্যজন্তু অধুষিত অন্ধকার বনপথে নিৰ্ভয়ে আসা-যাওয়া করতে পারে, তবে আমরা মস্তবড় দুঃসাহসের কাজ কিছু করছি না রাত্রে গাড়ী করে ফিরে । আগে ভয় যে না হয়েছিল এমন নয় ; এখন লজ্জিত হলাম সেজন্তে। তবে এ বনই এদের জন্ত, কিছু বোঝে না ওরা বন ছাড়া। স্নেহময়ী জননীর অন্ধের সমান ওদের কাছে এই পাওববর্জিত বনাঞ্চল, বাঘ-ভালুক ওদের বাল্যসঙ্গী। আমাদের তা নয়, এইটুকু যা তফাত ।