পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


अठेथ छल ১৩ দারোগা বাজখাই আওয়াজে ধমক দিয়ে বললে—উত্তর দিচ্ছ না যে বড়, বদমাশ কাহাক ! রামপ্রসাদ আমতা আমতা করে কি বলতে গেল, কেউ বুঝতে পারলে না। আমি তবুও একটা কথা দারোগাকে এখনো বলি নি। সেটা হোল শাস্তির বর্তমান শারীরিক অবস্থার কথা । শাস্তি যতই ছুশ্চরিত্রা হোক, সে আমার সাহায্য চেয়েছিল চিকিৎসক বলে । রোগীর গুপ্ত কথা প্রকাশের অধিকার নেই ডাক্তারের, সাহায্য আমি তাকে করি মা করি সে আলাদা কথা । বৃদ্ধ চৌধুরী মশাই আমায় বললেন—যথেষ্ট হয়েছে বাবাজী, হাজার হোক ব্রাহ্মণের ছেলে, ওকে ছেড়ে দাও এবার | কাদো-কাদো হয়ে গিয়েছে । কিন্তু রামপ্রসাদ কাদো কাদো হয় নি, ওটা বৃদ্ধের ভুল। ভয়ে ও এমন হয়ে গিয়েছে। ৰাপের অনেক সম্পত্তি ছিল, তার বলে সে বাবুগিরি করছে, লোকের উপর কিছু কিছু প্রভূত্বও করেছে, কিন্তু লেখাপড়া না শেখার দরুন দারোগ পুলিশকে তার বড় ভয় । পুলিশের দারোগ দিন-দুনিয়ার মালিক এই তার ধারণা। আমি এটুকু জানতাম বলেই আজ দারোগাকে এনে তাকে শাসনের এই আয়োজন। নইলে অনেক ভাল কথা বলে দেখেছি, অনেক শাসিয়েছি, তাতে কোন ফল হয় নি। আমি চৌধুরী মশাইকে বললাম— ওকে ভাল করে শিক্ষা না দিয়ে আজ ছাড়ছি নে। এ ধরনের দুর্নীতির প্রশ্রয় দিতে পারি নে গায়ে | রামপ্রসাদ হাতজোড় করে বললে—এবারের মত আমায় মাপ করুন দারোগীবাবু — দারোগ বললে—আমি তোমার কাছে থেকে মুচলেকা লিখিয়ে নেবো—ষাতে এমন কাজ আর কখনো ভদ্রলোকের গ্রামে না করে। তাতে লিখে দিতে হবে— রামপ্রসাদ আরও ঘাবড়ে গিয়ে বললে—এবারের মত আমায় মাপ করুন দারোগাবাৰু ৷ —মুচলেকা না দিয়েই ? কক্ষনো না। লেখে মুচলেকা ! পাড়াগায়ের লোক রামপ্রসাদ, যতই শৌখিন হোক বা বাৰু হোক, পুলিশ-টুলিশের হাঙ্গামাকে যমের মত ভয় করে। আমি জানি এ মূচলেকা দেওয়ার কোনো মূল্যই নেই আইনের দিক থেকে, কোনো বাথ্যবাধকতাই নেই এর—রামপ্রসাদ কিন্তু ভয়ে কাটা হয়ে গেল মুচলেকা লিখে দেওয়ার নাম শুনে। —দাও, দাদা—লেখো আগে। —এবার দয়া করুন দারোগাবাবু । আমি বরং এ গা ছেড়ে চলে যাচ্ছি, বলুন আপনি— —কোথায় যাবে ? —পাশের গ্রামে বৰ্দ্ধমবেড়ে চলে যাই । আপনি স্থা বলেন । —সেই মেয়েটিকে একেবারে ছেড়ে চলে যেতে হবে— —আপনার যা হুকুম। দারোগা আমার দিকে চেয়ে বললে—তাহলে তাই করে । বছরখানেক এ গা ছেড়ে