পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৩১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


জ্যোতিরিঙ্গণ צ'לס আমি ফভূখেলা আমাদের গায়ে মেলার সময় দেখেছি। বাবা খেলতে দেয় না। নইলে আমার খেলার খুব ইচ্ছে । দাড়িয়ে দাড়িয়ে খেলা দেখছি, আরও অনেক লোক দেখছে। খেলছেও অনেক লোক। এই উপযুক্ত স্থযোগ, আর আসবে না। মায়ের দেওয়া আট আনাটা কিছু না ভেবেই একটা ঘরে দিলাম । খেলার মালিক বললে—কার আধুলি ? -—আমার । —আধুলি উঠিয়ে নাও । —কেন ? অামি খেলেছি যে ! —ন, তুমি আধুলি নিয়ে চলে যাও। —না, আমি খেললাম যে ! বা রে । —হেরে গেলে আমার কোন দোষ নেই কিন্তু থোকা । আমার দৃঢ বিশ্বাস হল, আমি এবার ঠিক ধরেছি। জিতব বলে ও শুধু ঐ রকম করছে। চালাকি পেয়েছে ! আমি বললাম না, তোমার কোন দোষ কেন থাকবে । লোকটা অমনি দড়ের বাটি তুলে বললে—এই চলে এস-ছক্কা । তোল দান । বাস আমার আধুলি তিরির ঘরে। চক্ষের নিমেষে সে আধুলিটা আত্মসাং করলে। বললে—গেল খোকা ? তোমায় বললাম ভাল কথা, তোমার আধুলি তুলে নাও— শুনলে না । আমার চোখে যেন সরষের ফুল দেখলাম । হাতে আর একটা পয়সাও নেই আমার । পন্টের গরু কি দিয়ে খালাস করে নিয়ে যাব ? সৰ্ব্বনাশ । সেই মাছওয়ালা বাগদী লোকটা সংপরামর্শ ই দিয়েছিল, তখন কেন শুনলাম না । বাবা অবিশ্যি বাড়ী থাকেন না, মা শুনলে কি বলবে ? আ-ট আ-না পয়সা গেল ! এক আধটা কি ! আহ, সেই অপূৰ্ব্ব বস্তু চানাচুরও যদি কিনতাম ঐ আট আন দিয়ে, এতগুলো দিত। বাড়ীর সবাই খেয়ে খুশী হত। এভাবে একেবারে মূলে-হাভাত হত না আধুলিটা। না আর কোথাও দাড়ালাম না । , মন বড় খারাপ হয়ে গিয়েছিল। শহর অতি খারাপ জায়গা। পেট চুই-চুই করছে ক্ষিদেতে । চার পয়সা আছে সঙ্গে, ওই পয়সায় পান কিনে নিয়ে যেতে হবে মার জন্যে । মা পান পেলে খুশী হয়। হয়তে আধুলি খোয়ানোর রাগটা একটুখানি কমতে পারে। পান কোন দিকে বিক্রি হয় ? পান নিয়ে যাই চার পয়সার। বেলা পড়ে আসছে। তিন ক্রোশ রাস্ত এখন যেতে হবে।