পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৪১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কুশল,পাহাড়ী ৩২১ আরো মুগ্ধ হলাম যখন সাধুজী ঈশোপনিষদের একটা শ্লোক উচ্চারণ করে তার ব্যাখ্যা করতে লাগলেন। বার বার বলতে লাগলেন, “কবিৰ্মনীষী পরিভূঃ সয়ন্থ।” শ্লোকটির মধ্যেকার 'কবি' কথাটার অর্থ—বৃদ্ধ । সাধুর মুখের সেই মধুর গম্ভীর বাণী আজও কানে বজিচে : “কবিই তিনি বটেন বাবা । এখানে বসে বসে দেখছি। এই শালগাছটাতে ফুল ফোটে, বর্ষাকালে পাহাড়ে ময়ুর ডাকে, ঝর্ণা দিয়ে জল বয়ে যায়, তখন ভাবি, কবিই বটে তিনি। আমি কিছু পাইনি বাবা । ভড়ং দেখচে, এ সব বাইরের। ভেতরের জ্ঞান কিছু হয়নি। তবে দেখতে চেয়েচি তাকে । তার এই কবিরূপ দেখে ধন্য হয়েচি ৷” এ সব বছর সাতেক আগেকার কথা । আবার কলকাতা শহরে দুবেলা নিয়মিত অফিস করচি। অর্থের সচ্ছলতা এমন নেই যে যখন তখন বা প্রতিবৎসর বেরিয়ে যাবে বেড়াতে । সেদিন একটা পার্টিতে গিয়েছিলাম। বড়লোকের বাড়ীর পার্টি । অনেক বড়লোকের আনাগোনা দেখলাম—ত্রাইস্লার ইাকিয়ে, বুইক হাকিয়ে, মিনার্ভ হাকিয়ে । বেশ সুন্দর সব চেহারা, কেতাদুরস্ত সাজগোজ । কিন্তু এত শিক্ষিত ও সন্ধান্ত, অবস্থাপন্ন লোকের সম্মেলনে সেদিন যা আশা করে গিয়েছিলুম তা পেলাম কই ? শুধুই শুনলুম বৈষয়িক কথাবার্তা । যেমন— —দেওঘরের বাড়ীটাতে এবার যাওয়া হল না। বড় ছেলের ইচ্ছে, আরো কিছু ফাৰ্ণিচার কিনে পাঠিয়ে দিলাম। কেউ গেল না গতবার, এবারও না । ওটা আর রাখবো না । আমার তো নিজের সময় নেই যাওয়ার । ছেলেরাও যেতে চায় না | বিষণলাল দালাল চল্লিশ হাজার দর দিয়েছিল মার্চ মাসে । আমার স্ত্রীর ইচ্ছে নয় বাড়ী বেচি। অথচ যাওয়াও হয় না। আপনার রিজেণ্ট পার্কের জমিটাতে কিছু করলেন ? —হঁ্যা, প্ল্যান শ্বাংশন করতে দেওয়া হয়েচে । আশি হাজারের ওপর এস্টিমেট দিয়েচে বাগচি। ওরাই করবে। পি. ঘোষালের বাড়ীটা তো বাগচি করলো—চমৎকার করেচে। অথবা— o —ইলেকৃতনের আগে এই সব মজুর শ্রমিকের গোলমাল কেমন মনে করেন ? —ভালো না। সব জায়গায় চলচে । যে পার্টি মনে ভাবুন এদের সপক্ষে যাবে না, ইলেক্‌ শুনের সময় তাদের মুশকিলে পড়তে হবে। —সে তো বোঝাই যাচ্চে । ইলেকগুনের আগে দেশের মধ্যে বিরোধ, দলাদলির ফল এই দাড়াবে— তারপর চললো বিশ্লেষণ। রাজনৈতিক তথ্যের বিশ্লেষণ । সেই বৈদ্যুতিক আলোয় আলোকিত, স্ববেশ, স্বশিক্ষিত, ভদ্রজনসমাগমের মধ্যে বসে আমার মনে আসছিল কুশল পাহাড়ীর সেই প্রাচীন সাধুর কথা । তার সেই স্বন্দর সরল বাণী, নির্জন বি. স্ব, ১১—২১