পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৪৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ల్సీ 8 বিভূতি-রচনাবলী বুঝতে পারেন নি, ধারণা করতে পারেন নি। তাই ঘটে গেল অবশেষে । না খেয়ে সমস্ত রাত কাটলে কেশব গাঙ্গুলীর—নিজের পৈতৃক ভিটেতে, স্ত্রী ও দুই কন্যা বর্তমানে । উঃ, এ কথা ভাবতে পারা যায় ? কেশব গাঙ্গুলী সত্যি কথনে ভাবেন নি যে, এতটা তিনি হেনস্থার পাত্র তার সংসারে । মেয়েরা বা স্ত্রী তাকে কেউ ভালবালে না, এ তিনি অনেকদিন থেকেই জানেন । কিন্তু তার বহর যে এতট, তা তিনি ধারণা করবেন কি ভাবে ? 羲 ক্ষুধায় ও মশার কামড়ের যন্ত্রণায় সারারাত কেটে গেল ছটফট করে । সকালে উঠে আগে কেশব নদী থেকে স্নান করে এসে সন্ধ্যাহিক ও জপ করে নিয়ে প্রতিবেশী যদুনন্দন মজুমদারের বাড়ী চ খেতে গেলেন । যদুনন্দন বললেন—কি কাকা, আজ এত সকালে কি মনে করে ? এ কথার উত্তরে কেশব গাঙ্গুলী বললেন কাল রাত্রের কথা। পরিবার ও মেয়ে দুটির দুৰ্ব্ব্যবহারের কাহিনী ৷ যদুনন্দনের কাছে এ কথা নতুন নয়, পাড়ার মেয়েদের কানাকানির মধ্যে দিয়ে কেশব গাঙ্গুলীর দুরবস্থার কথা অনেকদিন শুনেছেন তিনি। তবুও বিস্ময়ের ভান করে বললেন—সে কি কাক, বলেন কি ? কাল রাত্রে খান নি ? এ বডড অন্যায় কাকীমার । ছিঃ ছিঃ–এ বেল আপনি আমার বাড়ী খাবেন । বস্থন । কেশব গাঙ্গুলী আর বাড়ী এলেন না। সেখানেই দুপুর পর্য্যন্ত থেকে আহারের পর যখন বাড়ী এলেন, তখন এক ভীষণ কাণ্ড বেধে গেল। মুক্তকেশী বললে—আবার বাড়িতে কেন ? যাও দূর হও, যে বাড়ীতে গিয়ে নিন্দে রটনা করে এক পাথর ভাত মেরে এলে, সেখানেই যাও না, কতদিন খেতে দ্যায়, দেখি একবার । মেয়েরাও বললে—বেশ তো, পরের বাড়ী টোকূল৷ সেধে কদিন চলে, দেখি না ? এখানে আবার কেন ? যাও ন!— —কাকে কি বলেছি আমি ? —আহা! ন্যাকা! আমরা আর জানিনে । এই তো যদুদার মেয়ে ঘাটে আজ ব্যাখ্যান করেছে সবার কাছে। ওই বুড়ে মানুষ ওঁকে খেতে দ্যায়নি, দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছে, মেরেছে —সে কত কথা ! আমরা শুনি নি কিছু! o —ত তো মিথ্যে কিছু বলি নি । —মেরেছিলাম তোমাকে আমরা ? খেতে দিই নি আমরা ? তুই না তেজ করে চণ্ডীমণ্ডপে গিয়ে শুয়ে রইলে! আবার লাগানি-ভাঙ্গানি পাড়ায় পাড়ায় ! বেশ লাগাও, লাগিয়ে করবে কি ? যাও না, যেখানে খুশি—আমরা তো বলেছি, বেরোও না— ছোট মেয়ে বললে—ময়ে যাও না, মলেই তো বাচি— কেশব গাঙ্গুলী ঘরের মধ্যে ঢুকে কাপড়-জামা পরে এবং একটা থলের মধ্যে কাপড়-গামছা পুরে নিয়ে তেড়েফুড়ে বাড়ী থেকে বেরুলেন । বলে গেলেন—বেশ তাই যাচ্ছি—আর তোদের বাড়ী আসবো না—চললাম।