পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৫১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কুশল পাহাড়ী VE@% রাত্রে আবার সেই লুচি, মাছ, মিষ্টি, দুধ । কি খাওয়া-দাওয়া এ বাড়ীর ! কি সব আটপৌরে শাড়ী পরেছে মেয়েরা! বিদ্যুতের আলো, পাখা। কত স্বখে এরা আছে, কেমন খাওয়া-দাওয়া ! মুক্তকেশীকে, মেয়েদের কি যত্বে তিনি রেখেছেন ? চিরকাল রেলের ঘূপচি বাসায় বাস করে এসেছে, এখন দেশে গিয়ে দুবেলা ধান সেদ্ধ করতে হয়, ক্ষারে কেচে কাপড় পরতে হয়, থোড় আর এ চড়ের তরকারি ছাড়া মাছ-মাংস হয় মাসে কদিন ? হাতে পয়সা কোথায় ?...কোনো ভাল জিনিস দিতে পারেন ওদের মুখে আজকালকার বাজারে ? লুচি ছিড়তে গিয়ে কেশব গাঙ্গুলীর চোখে জল এল। মাছের মুড়ো-কতকাল মাছের মুড়ে খাননি, ওদের খেতে দিতে পারেননি ! কি মুখে রেখেছেন ওদের ? -টনি বলল—চমচম দুটোই খেয়ে ফেলুন দাদু, গরম লুচি নিরে আসি । পরদিন সকালে রমাপতি কুণ্ডুর বাড়ী থেকে চলে গেলেন কেশব । ওঁরা বলেছিলেন সেদিনটাও থাকতে। কেশব থাকতে চাইলেন না। তাতে দুঃখ খুচবে না। একটা চাকরি পেলেও হত । এখানে সেজন্যেই আসা। ওদের বাড়ী থেকে বেরিয়ে গঙ্গার ধারের দিকে চললেন । একটা নির্জন স্থানে বসে কতক্ষণ ভাবলেন। জগতে কেউ কাউকে ক্ষমা করে না। মুক্তকেশীর ওপর হয়তো কোনো সময় অন্যায় কিছু করে থাকবেন, তা ওরা কখনো ভুলবে না, প্রতিশোধ নেবার সময় এলেই প্রতিশোধ নেবে। এই কি জগতের নিয়ম ? এ জগতে কেউ কি ভালবাসার নেই ? বিচার করবার, দণ্ড দেবার সকলেই আছে ? বেলা দুপুর হল । একটা হোটেল থেকে কিছু খেলেন হুগলীতে । হুগলী থেকে গেলেন ব্যাণ্ডেলে । উদ্দেশ্যহীন ভ্রমণ। রাত হয়ে আসছে। এই বর্ষায় থাকবেন কোথায় ? রাত্রে ভীষণ বৃষ্টির মধ্যে স্টেশনের একটা বেঞ্চির ওপর শুয়ে রইলেন । শীত করতে লাগলো ঠাণ্ড বাতাসে। গায়ে দেবার কিছু আনা উচিত ছিল, আনা হয় নি। ভুল হয়ে গিয়েছে। ভুল ! ভুল ! সব ভুল জীবনে । চাকরি করা ভুল, বিয়ে করা ভুল, সংসার করা ভুল । সস্তান-উৎপাদন ভুল, কারো কাছে স্নেহ-মমতা আশা করা ভুল, সব ভুল । জীবনটা একটা মস্ত ভুল। একটা মস্ত ফাকা—একটা মস্ত ফাকি । না, ও সব আর তিনি ভাববেন না । চার দিন পরে । কেশব গাঙ্গুলীর হাতের সব টাকা ফুরিয়ে গিয়েছে। ব্যাণ্ডেল স্টেশনের বেঞ্চিতে শুয়ে এ কদিন কাটলো। কাল থেকে কিছু খাওয়া হয় নি। খুব খিদে পেয়েছে। চলব কি করে ? তার শরীর ঝিম্ ঝিম্ করছে খিদেতে। তিয়াত্তর বছর বয়সে খিদে সহ করবার