পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৫৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কুশল পাহাড়ী OOC. —আরও গোটাকতক স্টেশন পার হয়ে যাক। এখন না। আপনি ঘুমিয়ে পড়ুন। পঞ্চানন চক্ৰবৰ্ত্তী ক্রু চলে গেল। গাড়ী ঝড়ের বেগে চলেছে। বাইরে এক পশলা বৃষ্টি হচ্ছে বেশ জোরে । ঠাণ্ডা হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির ছাট আসছে জানলা দিয়ে কামরার মধ্যে। কি একটা ফুলের স্বগন্ধ এল এক ঝলক । আ, কি স্বন্দর আরাম –খুমিয়ে আরাম আছে এমন জায়গায় । বুকের মধ্যে কেমন করছে, কেন কে জানে ? নির্জন গাড়ী। তিনপাহাড়ে কত রাত্রে গাড়ী পৌঁছুবে ? বিয়ের দুতিন বছর পরে তিনপাহাড়ে ছিলেন তিনি মুক্তকে নিয়ে, সান্ট-কে নিয়ে । সেই সময়ের কথা কখনো ভুলবেন না তিনি। ব্যাণ্ডেল আর তিনপাহাড় । জীবনে এই দুই স্বর্গ। দুটি স্বর্গের দুটি অমর কাহিনী তার বুকে লেখা রয়েছে। পঞ্চানন ঘুমিয়ে পড়লে তিনপাহাড়ে তিনি নেমে পড়বেন। তিনপাহাড়ে এই বর্ষাকাল কাটে সেবার । একটা কি পাহাড়ের ওপর কি ঠাকুর ছিলেন। মুক্ত ও তিনি দেখতে গিয়েছিলেন। মুক্ত বললে—খাবে কি ? পাহাড়ের নিচে চড়ুইভাতি করবো । রান্না করতে করতে বৃষ্টি এল। একটা পাকুড় গাছের তলায় রান্না হচ্ছিল। স্টেশনমাস্টার ছিলেন শশিপদ সামন্ত, মেদিনীপুরে বাড়ী । তার দুই ছেলে ননী ও হাবু ছিল সঙ্গে । হাৰু কাঠ ভেঙে নিয়ে এলো পাহাড়ের ওপর থেকে । মুক্ত খিচুড়ি রাধতে গিয়ে ধরিয়ে ফেললে। তাই নিয়ে কি হাসাহসি । পাকুড় গাছের গুড়ির আড়ালে দাড়িয়ে মুক্ত চোখ পাকিয়ে বললে,—তুমি খাবে না ? —কে বলেছে ? —ননী হাবু বলেছে ? —বাজে কথা । চমৎকার চড়ুইভাতি । —খেয়ে বলতে পারবে না যে, খিচুড়ি এটে গিয়েছে । —না গো, বলবো না । দিয়েই দ্যাথো । মুক্ত হি হি করে হেসে উঠে বললে—ও পেটুকের পাল্লায় পড়লে খিচুড়ির হাড়িই কাবার হবে, তা বুঝতে পারছি—বসে। বসে যাও। ভালো সরের ঘি এনেছি, খিচুড়ি দিয়ে থাবে বলে। কিন্তু সত্যি, ধরে গেল বলে মনটা খারাপ হয়ে গিয়েছে । —পাগল । দিয়েই স্থাখো না । মন খারাপ করতে হবে সেজন্যে নয়, আরও বেশি করে রাধ নি কেন সেইজন্তে । —বেশ, খাও না । আবার না হয় চড়িয়ে দেবো । মনে আছে সেই পাহাড়ের ওধারে কোথায় ছিল কদম ফুলের গাছ। ননী প্রথমে নিয়ে এল এক গুচ্ছ ।