পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


3& বিভূতি-রচনাবলী —কেন জানি নে। তোমার মোড়লগিরি দিনকতক বন্ধ রাখে । লোকের শাপমস্তি কুড়িয়ে কি লাভ ? রামপ্রসাদকে দারোগ গা ছেড়ে যেতে বলেছে—এটা কি ভাল ? —ওই এক কথা পঞ্চাশ বার আমার ভাল লাগে না। যে দুশ্চরিত্র, তাকে কখনো এ গায়ে আমি শাস্তিতে থাকতে দেবো না । —আমার কথা শোনো লক্ষ্মীটি, তোমার ভাল হবে । * o কিন্তু ওসব কথায় কান দিতে গেলে পুরুষ মানুষের চলে না। মনে মনে শাস্তির ওপর খুব রাগ হোল। আমার বাড়ীতে আসবার কোনো অধিকার নেই তার। এবার ঢুকলে তাকে অপমান হতে হবে । সনাতনদা বিকেলের দিকে আমার এখানে চ খেতে এসে হেসে গড়িয়ে পড়ে আর কি ! বলে—আরে, তুমি যা করলে—বাবা-পেটে খিল ধরে যাচ্ছে হেসে— —কি, হয়েছে কি সনাতনদা ? সনাতনদা দম নিয়ে বললে—ও ! রও, একটু সামলে নিই— —কি ব্যাপার ? —ইn, জব্দ করে দিলে বটে ! বাবা, কুঁদির মুখে বাক থাকে ? কার সঙ্গে লেগেছে রামপ্রসাদ ভেবে দেখেছে কি ? পুরুষ মানুষের মত পুরুষ মানুষ বটে তুমি ! সমাজে চাই এমনি বাঘের মত মানুষ, নইলে সমাজ শাসন হবে কি করে ? সনাতনদার কথাগুলো আমার ভালোই লাগলো। সনাতনদীকে লোকে দোষ দেয় বটে, কিন্তু ও খাটি কথা বলে । বেঁটে থাটো লোক, অপ্রিয় কথাও বলতে অনেক সময় ওর বাধে না । অমন লোক আমি পছন্দ করি । তবুও আমি বললাম—যাক, পরনিন্দে করে আর কি হবে সনাতনদ), ওতে যদি রামপ্রসাদদা ভাল হয়ে যায়, আমি তাই চাই । ওর ওপর অন্য কোন রাগ নেই আমার । সনাতনদা গলার স্বর নিচু করে বললে—ও কাল কি করেছিল জানো ? তোমাদের ওই ব্যাপারের পরে কাল বড় মুখুয্যে মশায়ের কাছে গিয়েছিল। গিয়ে কাদো-কাদো হয়ে বললে —আমাকে পাঁচজনের সামনে এই যে অপমানটা করলে, আপনারা এর একটা বিহিত করুন। নইলে গ্রামে বাস করি কি করে ? —কি বললেন জ্যাঠামশায় ? —বললেন, শশাঙ্ক হলো গ্রামের ডাক্তার—শুধু ডাক্তার নয়, বড় ডাক্তার। বিপদে আপদে ওর দ্বারস্থ হতেই হয়। তার বিরুদ্ধে আমরা যেতে পারবো না । এই কথা বলে বড় মুখুয্যে মশায় বাড়ির ভিতর চলে গেলেন। সত্যিই তো, ছেলেপিলে নিয়ে সবাই ঘর করে, কে তোমাকে চটিয়ে গায়ে বাস করবে বল তো ? —ত নয় সনাতনদী। এ জন্তে আমায় কেউ খোসামোদ করুক—এ আমি চাই নে । ডাক্তারি আমার ব্যবসা, কিন্তু সমাজের প্রতিও আমার একটা কৰ্ত্তব্য আছে, যেটা খুব বড় । যতই তার ওপর রাগ থাকুক, বিপদে পড়ে ডাকতে এলে বরং শত্রুর বাড়ী আমি জাগে