পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


७8रे বিভূতি-রচনাবলী —চার কুড়ি পুরে গিয়েচে ভাই । —একা কতদিন এ বাড়ীতে আছেন ? —তোমাকে তো বল্লাম ভাই ! তিনি মরে গিয়ে এস্তক। রামলীল তখন থেকেই তো চাকরি করতো। তার বে। এ বাড়ীতে থাকতে আমার কাছে । রামলাল মারা গেলে বেীমা চলে গেল এখান থেকে । இ. —আর আসে নি ? –ণী । বেীমার বাবার বাড়ী ছিল কলকাতার শহরে। শহরের মেয়ে, আর কখনো এখানে আসে । —তার একটি ছোট ছেলে ছিল ? বড় দিদিমা বিস্ময়ের দৃষ্টিতে আমার মুখের দিকে চেয়ে বল্লেন—তুমি কি করে জানলে ? --ছেলেবেলার কথা মনে আছে যে ! সে ছেলে কোথায় ? —জানিনে ভাই । পশ্চিমে চাকরি করে, এই শুনেছিলাম । —চিঠিপত্তর দেয় ? --নাঃ । —রামলাল মামার স্ত্রী বেঁচে আছেন ? —তা কি করে জানবো ? —খোজ নেয় না আপনার ? —কি জন্যে নেবে ভাই। পরে কি তা কখনো নেয় ? তারা তো আর আমার কেউ না । বেীমা আমার সতীন-পোর বে। আমার ওপর তার কি দরদ থাকতে পারে বলো। খোকা তো আমায় মনেই করতে পারে ন!—তখন সে দেড় বছরের বাচ্চ । একাই থাকি, আজি কতকাল আছি তা ভুলেই গিয়েচি। কেউ নেই কোনোদিকে আপনার । —আপনার বাপের বাড়ীর কেউ ? —হুগলীর কাছে মশাট গ্রামে আমায় বাপের বাড়ী । ম্যালেরিয়ায় সে দেশ উচ্ছন্ন গিয়েচে । একটা ভাই ছিল, সে তারকেশ্বরে দোকান করতো। কোনদিন খবর নেয়নি ইনি মারা যাওয়ার পরে। সে আছে কি নেই, তা কি করে জানবো ? বসো ভাই, আসচি– বড় দিদিমা ঘরের মধ্যে ঢুকে হাড়ি-কলসী ঘূটবুট করতে লাগলেন। সেকেলে খাবরাটে ষ্টটের প্রকাও বাড়ীর ছোট ছোট জানালা-দরজাশূন্ত কুঠুরী, দিনমানেই অন্ধকার। দু-তিনটি ঘর দিদিমা ব্যবহার করেন, বাকিগুলো পড়ে থাকে চামচিকে আর বাদুড়ের বাসা হয়ে । তেলের অভাবে এতবড় বাড়ী অন্ধকার । খানিকটা পরে দিদিমা বেতের ধামিতে করে আমায় নিয়ে এসে দিলেন দুটি মুড়ি আর গোটাকতক নারকেলের নাড় —আমার সামনে নিয়ে এসে বজেন—থা— —আবার এ সব কেন ? —তুই কতকাল পরে এলি ভাই, সত্যভামার ছেলে, শুধুমুখে যাবি ? আমার মনে