পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৬৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


©809 বিভূতি-রচনাবলী সাদা বড় বাংলোর সামনে হৰ্ণ দিয়ে গাড়ী দাড়াতেই ফুল-প্যান্ট ও হাতগোটানো কাৰিপা এক তত্ৰলোক হাসিমুখে বাংলোর বারান্দায় দেখা দিলেন, তার পেছনে একটি ভদ্রমহিলা এসে দাড়ালেন, ছোট-বড় ছেলেমেয়ে সঙ্গে । মুহাসিনীর মুখ চূণ হয়ে গিয়েচে দেখলাম, বেচারী এমন বড়লোকের বাড়ীতে নিমন্ত্রণে কখনো আসেনি, দেখে শুনে ঘাবড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক নয় ওর পক্ষে । to —আরে এই যে, আয় বগদা ! এসে এসে বৌ-ঠাকরুণ ! . ওগে, এই স্থাখে আমাদের বগদা ! তারপর—সব ভালো ? একটি ছেলে, দুটি মেয়ে ? বেশ বেশ•••থাক্ থাক, এসো বাবা, মুখে থাকে,—ইনি তোমাদের কাকী-মা হন, প্রণাম করে । আমি এতক্ষণ অবাক হয়ে সাহেবী-পোশাক-পরা ব্যক্তিটির দিকে চেয়ে ছিলুম। আরে, এ দেখচি আমাদের ক্লাসের সেই হাজু! যে সেকেণ্ড মাস্টারের অঙ্কের পিরিয়ডে নিয়মিত টাস্কের খাতা দেখাতে, একদিনও বাদ দিত না বলে মনে আছে সেকেণ্ড মাস্টার ওকে বডড ভালবাসতেন । কিন্তু নীলমণি মিত্রের ইংরিজির পিরিয়ডে হাজ পেছনের বেঞ্চিতে আত্মগোপন করতো কোথায়, একদিন একটাও পার্সিং করতে শুনিনি ওর মুখে । আর মনে আছে ফুটবল খেলতে গিয়ে স্কুলের মাঠে ওর হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল। মাস খানেক সেজন্য হাসপাতালে ছিল । মেয়েরা চলে গেল বাড়ীর মধ্যে, আমি ও হাজু বসে বসে কত পুরনো কথা বলতে লাগলুম ! ঘণ্টা খানেক কেটে গেল। হাজুর বড় মেয়ে চা ও খাবার দিয়ে গেল আমাদের দুজনের । মিথ্যে কথা বলবো না, অনেকক্ষণ থেকে এই খাবারের প্রতীক্ষায় উদ্‌গ্ৰীব হয়ে ছিল ক্ষুধাতুর মন । তা খাবার এলো ভালই—লুচি, বেগুন ভাজা, ইলিশ মাছ ভাজা, সন্দেশ, রাবড়ি । পরিশেষে চা ৷ হাজু বল্লে—সব বাড়ীর তৈরি । গৃহিণী ভাল রাধিয়ে—ওই মস্ত এক মুখ । —কই, তোর বৌয়ের সঙ্গে আলাপ করিয়ে দিবি তো ? —চল বাড়ীর মধ্যে। খাবার-টাবার তৈরি করছিল । রাত্রে এখানে খেয়ে যাবি কিন্তু । —এই তো ভাই যথেষ্ট পেটভরা খাওয়া হল। আবার রাত্রে কি খাবো ?—কথাটা কিন্তু আদৌ অতিরঞ্জিত বলিনি। চা খাওয়ার পর হাজু বল্লে—চল—এরোড্রোমের রাম্ওয়ে দেখিয়ে নিয়ে আসি । —বোঁকেও নিয়ে যাবো ? - --হুঁ্যা হঁ্যা, নিশ্চয় । ফ্লাস্কে করে চা নিয়ে যাব, সেখানে খাওয়া যাবে। স্বহাসিনী এসে মোটরে উঠলো হাজুর সঙ্গে—আলাপ করিয়ে দিলাম। হাজু বল্লে—বোঠাকরুণ, একদিন আপনার হাতের রান্না খেতে যাচ্চি কিন্তু— স্বহাসিনী বরে—সামনের রবিবার চলুন না সবাই দিদি, মন্ট, নীলিমা, অনিম, সবাই যাবে। হাজু হেসে বল্লে—সে হবে না । স্টেশন ছেড়ে বেশিক্ষণ কোথাও যাবার জো নেই আমার । খাবো গিয়ে সন্দের পরই। ঘণ্টা খানেক থাকবো। বাড়ীতে এরা না থাকলে চলবে না,