পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


छछ। ›ዓ বাবে ! ওই রামপ্রসাদদার যদি আজ কোন অস্থখ হয়, তুমি সকলের আগে সেখানে আমায় দেখতে পাবে | সনাতনদা কথাটা শুনে একটু বোধ হয় অবাক হয়ে গেল, আমার মুখের দিকে খানিকটা কেমন ভাবে চেয়ে রইল। তারপর কতকটা আপন মনেই বললে—শিবচরণ কাকার ছেলে, তুমি, তিনি ছিলেন মহাপুরুষ লোক, এমন কথা তুমি বলবে না তো কে বলবে ? সনাতনদা আমার মন রাখবার জন্যে বললে । কারণ এ গ্রামে কে না জানে, আমার বাবা র্তার পৈতৃক সম্পত্তির অৰ্দ্ধেক উড়িয়েছিলেন মদে আর মেয়েমানুষে। তবে শেষের দিকে হাতে পয়সা যখন কমে এল, তখন হঠাৎ তিনি ধৰ্ম্মে মন দেন এবং দানধ্যান করতে শুরু করেন। প্রতি শীতকালে গরীব লোকের মধ্যে বিশ-ত্রিশখান। কম্বল বিলি করতেন, কাপড় দিতেন—এসব ছেলেবেলায় আমার দেখা । পৈতৃক সম্পত্তির যা-কিছু অবশিষ্ট ছিল, তা তিনি উড়িয়ে দেন এই দানধ্যানের বাতিকে। কেবল এই বসত বাড়ীটুকু ঘুচিয়ে দিতে পারেননি শুধু এই জন্যে যে, সেকালে লোকের ধৰ্ম্ম ছিল, ব্রাহ্মণের ভদ্রাসন কেউ মর্টগেজ রাখতে রাজী হয় নি ! সন্ধ্যার সময় ওপাড়া থেকে ফিরছি, পথে আবার শান্তির সঙ্গে দেখা । দেখা মানে হঠাৎ দেখা নয়, যতদূর বুঝলাম, শাস্তি আমার জন্যে ওৎ পেতে এখানে দাড়িয়ে ছিল । বললাম— কি শাস্তি, ব্যাপার কি ? এখানে দাড়িয়ে এ সময় ? শাস্তি স্থিরভাবে দাড়িয়ে আমার দিকে পূর্ণদৃষ্টিতে চেয়ে বললে—তোমার জন্যেই দাড়িয়ে আছি শশাঙ্কা । আমি বড় বিপদে পড়ে গেলাম ! এ ভাবে নির্জন পথে শাস্তির মত মেয়ের সঙ্গে কথা বলা আমি পছন্দ করি নে। বললামও কথাটা । তার দরকার থাকে, আমার বাড়ীতে সে যেতে পারে । তার বৌদির সামনে কথাবাৰ্ত্ত হবে । পথের মাঝখানে কেন ? শান্তি বললে—শশাঙ্কদী, তোমার ওপর আমার ভক্তি আগেও ছিল ৷ এখন আরও বেশি। আমি এ কথা ওর মুখ থেকে আশা করি নি, করেছিলাম অম্বুযোগ—তাও নিতান্ত গ্রাম্য ধরনে, অর্থাৎ গালাগালি।. তার বদলে এ কি কথা ! এই কথা শোনাবার জন্যে ও এখানে দাড়িয়ে আছে! বিশ্বাস হোল না ! বললাম—আসল কথাটা কি শাস্তি ? —আর কিছু না, মাইরি বলচি শশাঙ্কদা— —বেশ, তুমি বাড়ী যাও— শাস্তি একটু হেসে বললে—আমার একটা কথা রাখবে শশাঙ্কদা ? তোমার ডাক্তারখানা থেকে আমায় একটু বিষ দিতে পারো ? আমার বড় রাগ হয়ে গেল। বললাম—ঘোর-পেচ কথা আমি ভালবাসি নে, বা বলবে সামনা সামনি বলে। বীঝের সঙ্গে জবাব দিলাম—কোন কথা থেকে এ কোন বি. র. ১১—২