পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কুশল পাহাড়ী ett —কেন ? —ঘুম দেবে। —আমি ঘুম দিচ্ছি। —বাবা দেবে—বাবা দেবে। মতিলালকে খোকার শিয়রে বসে বসে ঘুম পাড়াতে হয়। প্রতি সন্ধ্যাতেই এ রকম। আজ নতুন কিছু নয়। খোকা বলে—বাবা, জন্তি গাছটি-- কি ? জন্তি গাছটি ? তবে শোনো— ওপারের জস্তি গাছটি জন্তি বড় ফলে— গোজস্তির মাথা খেয়ে প্রাণ কেমন করে খানিকটা পরে খোকা নিস্তব্ধ ও নীরব হয়ে গেল । ঘুমিয়ে পড়েছে মনে করে মতিলাল যেমন বাইরে এসে বসে বসে তামাক ধরিয়েছে, খোকা এমন সময়ে কেঁদে উঠলো—ও বাবা, কোথায় গেলি ? ও বাবা— মতিলাল তামাক খেতে খেতে হুকো নামিয়ে রেখে ছুটলো ছেলের কাছে । অন্নপূর্ণ হেসে বলে—ও ঘুমের ঘোরে মাঝে মাঝে পেছন দিকে হাত দিয়ে দেখে তুমি আছ কিনা। যদি বোঝে—নেই, তবে ওর ঘুম অমনি ভেঙে যায়— বাইরের তামাকের ধোয় পুড়ে পুড়ে শেষ হয়, মতিলালকে ঠায় বসে থাকতে হয় শিশুর শিয়রে । পরদিন নাইতে যাচ্ছে তেল মেখে মতিলাল । খোকা বল্লে—আমি যাবো—বাবা— নদীতে যাই । সে রোজই যায়। তাকে তেল মাখিয়ে নিয়ে গিয়ে ডাঙায় দাড় করিয়ে রাখে । যে ঘাটে মতিলাল যায়, সেটাতে লোকজন বড়-একটা যায় না । বডড বনজঙ্গল । খোকা জলে নামবার জন্যে বাস্ত হয় । মতিলাল ওকে কোলে করে জলে নামে । মহাখুশিতে দুহাত দিয়ে খোকা খলবল করে জলে। কিছুতেই উঠতে চায় না। ওকে দুটাে ডুব দেওয়ায় মতিলাল। এক একটা ডুবের পর খোকা শিউরে আড়ষ্টমত হয়, নাকে মুখে জল ঢুকে যায় । খানিক পরে সামলে নিয়ে চারিদিকে তাকিয়ে হাসতে থাকে। নদীতে বর্ষার ঢল নেমেচে, বড় বড় শেওলা, কচুরিপানা টােপাপানার দাম তীর বেগে ভেসে চলেচে । খোকা বলে—ও কি বাবা ? —শেওলা | —ও বাবা, গান করি, গান কার— —করে | —এ-এ-এ-এ, ঘঠি বধনন—