পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৭৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ÖCo. বিভূতি-রচনাবলী খেলারাম বাবাজি বাবাজি— —বেশ । বেশ গান। এবার জল থেকে ওঠে । হ্যারে, তোকে ও গান শেখালে কে রে ? —হঁ্যা—যতো সব কাও ! আবার গান করে তো ? —ঘটি বর্ধনন-- খেলারাম বাবাজি— —বেশ গান শিখিচিস—জয় যদু-নন্দন, ঘটীবাটি-বন্ধন, তুলোরাম খেলারাম বাবাজি— থোকার বহু আপত্তি সত্ত্বেও মতিলাল খোকাকে গা মুছিয়ে ঘাটের ওপরে কুলগাছের ছায়ায় দাড় করিয়ে রেখে নাইতে নামলো । ঢল-নাম বর্যার নদীতে কামট-হাঙরের ভয়, জেলের প্রায়ই দেখতে পায় । কুমীর তো কাল না পরশু একটা দেখা দিয়েছিল বেলেডাঙার বঁাকে । খোকাকে বেশিক্ষণ জলে রাখা ঠিক নয়। ডাঙার কুলতলা থেকে বাবাকে জলে ডুব দিতে ও হাত-পা ছুড়তে দেখে খোকা খুব খুশি । ক্রমে খোকাকে খুশি করবার জন্য মতিলাল খরস্রোতা বর্ষার নদীতে সাতার দিতে শুরু করলে । খোকা ডাঙা থেকে ডাকলে—ও বাবা—বাবা-— দূর থেকে মতিলাল উত্তর দিলে—কি ? —আমি যাই— —ন, আর নদীতে নামে না। ঠিক থাকো । —থাকৃ দাড়িয়ে ওখানে— খানিকট পরে বাবাকে আদেী আর না দেখতে পেয়ে খোকা ডাকতে লাগলে— বাবা-বাবা— কোনো সাড়া নেই । —ও বাব!—ও মতিলাল— কোনো দিকে মতিলালের দেখাও নেই। —ও মতিলাল, তয় কব বে— খানিকট চুপ করে থেকে সে ভয়ের স্বরে বল্লে—ছিয়াল! বাবা, ও বাবা অনেকক্ষণ পরে কে-একজন তরকারিওয়ালা নৌকো পার হবার জন্যে এসে দেখে, কুলতলায় একটা ছোট ছেলে দাড়িয়ে ভয়ে আড়ষ্ট হয়ে কাদচে। অনেক দূর থেকেই সে শিশুকণ্ঠের আওঁ কান্না শুনতে পেয়েছিল। সে কাছে এসে বল্লে—কে গা ? কি হয়েচে থোকা ? তুমি কাদের ছেলে ? এখানে কেন ? থোকা আকুল কান্নার মধ্যে হাত বাড়িয়ে নদীর দিকে দেখিয়ে বলে—বাবা