পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৮৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কুশল পাছাড়ী ৩৬৫ রামলাল আমায় বল্লে—আরে, তোমায় একখানা ডেরা করিয়ে দেবো ? দু’জনে সকালে বৈঠকখানায় বসে কথা হচ্ছিল। —কেন ? —নিজের ঘর না হোলে মন টেকে না । —আপনাদের ঘর কি আমার ঘর না ? —ও তো একটা কথার কথা হোলো । —মোটেই কথার কথা নয়, আমি তাই ভাবি ৷ —সে তো বহুৎ আচ্ছা । তাহোলে একঠো সাদি করিয়ে আনে । —বাবারে ! নিজের চলে না, আবার সাদি । —তুমি করিয়ে নিয়ে এসো, আমি যতদিন আছি, সব-কিছু করিয়ে দেবো । সে ভাবনা আমার । —আমাকে এখানে বরাবর রাখতে চান ? বৃদ্ধ রামলাল বিস্ময়ের স্বরে আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বল্লে—নেই রহিয়ে-গা তো যায়গা কাহা ? ইসকো মানে ক্যা হ্যায় ? তুমি তো আছই এখানে । —কেন, নিজের দেশে যাবো ? —কাহে যায়গা ? জমি আমি করিয়ে দেবো, ঘর-ভি তৈয়ার করিয়ে দেবো। সাদি-উদি করিয়ে, বহুকে ইহাপর লেকে আওগে । —সে বেশ মজার কখ| | —যে কুছ বাত বলবো, তো মজাক কথা ছোড়-কর দুস্রাতরস্তু বাত মুখ থিকে বাহার নেই হোবে। কেৎনা রোজ তুম হিয়াপর হ্যায় ? —ছু বছর হবে সামনের ফাঙ্কন মাসে । —ব্যাস্ ! তব তো হইয়ে গেলো। তুমি আমাদের আদমি বন গেলো। দু বছর যখন এখানে থাকা করিয়েসে, তখন তোমাকে এখানে ঘর বানানে পড়েগা, সাদি-ভি কবৃনে পড়েগ । কথা শেষ করেই বৃদ্ধ রামলাল খিল খিল শব্দে হেসেই খুন ! এও একটি আস্ত পাগল । বাইরের জগতের কোনো সন্ধান রাখে না, নিজের মধ্যেই আত্মসম্পূর্ণ হয়ে বেশ একটি মায়ার নীড় রচনা করে উর্ণনাভের মত তার কেন্দ্রে বসে আছে। কি চমৎকার, কি সুন্দর জালটি বুনেচে । মা, বড় ভালো এরা । সে ফাগুন মাসও কোটে গেল। সেই জনহীন মালভূমির বনে বনে পলাশের ফুল আগুনের ধন্য নিয়ে এলো, মহুয়া ফুল নিয়ে এলো মাতাল-মধুর বন্যা । কুরচি আর করুন্ধা নিয়ে এলো স্বগন্ধের বস্তা। অথচ কেউ দেখলো না সেই অপরূপ ঋতুউৎসব, কোনো দিকে তার খবর গেল না—খানিকটা দেখলে বুড়ে রামলাল, আওড়ায় রামচরিত-মানস থেকে— শোভিত দৃগুক কি রুচি বনী— আর, অবিপ্তি খানিকটা দেখলুম আমি ।