পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৩৯৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী "לרש চা তৈরী করলে ললিত । আমরা রওনা হবার আগে হ্রদের জলে স্নান করে নিলাম। জল অত্যন্ত শীতল। শরীরে যেন নতুন বল পেলাম, নতুন আনন্দ, নব-জীবন । সামনে আবার আজ যখন পড়বে বিহারের দুর্দান্ত গরম, লু বইবে দুপুরের দিকে, বালির ঝড়ে দিক অন্ধকার হয়ে যাবে, তখন দোর বন্ধ করে খাটিয়ায় শুয়ে মনে পড়বে এই অদ্ভূত মায়াময় হ্রদটি, এই অগাধ স্নিগ্ধশীতল জলরাশুি, এই স্যামলবনাকীর্ণ উপত্যকা । গত রাত্রে জ্যোংস্নালোকিত হ্রদবক্ষের স্মৃতি হয়ে পড়বে তখন দূরকালের স্বপ্নের মত অবাস্তব । বিদায়, অজানা সরোবর, বিদায় ! আবার এ পথে এলে দেখা হবে নিশ্চয় । বে-নিয়ম রাম চাটুয্যের স্ত্রী খুব বিপদে পড়েই প্রতুলকে খবর দিলেন। রাম চাটুয্যে পাথুরে লোক ছিলো সবাই জানে। প্রতুলের যখন আঠারো উনিশ বছর বয়েস তখন এ সংসারে সে এসেছিলো রাম চাটুয্যের বাসের কণ্ডাক্টর হিসেবে । দু’বছর পরে কি কারণে তার জবাব হয়ে যায়। সে আজ পাচ-ছ’বছর আগের কথা । আজ তিন বছর রাম চাটুয্যে নিমোনিয়; রোগে মারা গিয়েছেন । দুখান বাস চলছিলো চাকদা থেকে রাণাঘাট হয়ে শান্তিপুর । মাসে হাজার খানেক টাকা আয় ছিলো দুখান৷ বাসে । রাম চাটুযোর মৃত্যুর পর তা এসে দাডালো দু’শো টাকায় । একখানা বাসের এঞ্জিনে নাকি কি গোলমাল হয়েছে—হাজার টাকার দরকার তা সারাতে। বর্তমানে দু’খানা বাসই বন্ধ । সময় পেয়ে নানা আত্মীয় বন্ধ এসে জুটেছে । তারা সবাই হিতাকাঙ্ক্ষী । নানা রকম সৎ-পরামর্শের চাপে রাম চাটুয্যের স্ত্রীর রাত্রে ঘুম বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। প্রত্যেকে কিছু না কিছু বাগিয়ে নেবার চেষ্টায় আছে । ইতিমধ্যে বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে, হাতের টাকাও অৰ্দ্ধেকের ওপর গিয়েছে। কেউ মেয়ের বিয়ের জন্তে এক মাসের কড়ারে টাকা নিয়ে বেমালুম গী-ঢাকা দিয়েছে । কেউ ব্যবসার জন্যে টাকা নিয়ে আজও গিয়েছে কালও গিয়েছে, আর দু’টাকা পাঁচ টাকা দশ টাকা যে কতে গিয়েছে তার লেখাজোখা নেই। ওবেলা দিয়ে যাবো, কাল বিকেলে দিয়ে যাবে ভাই—এই ধরণের সব কড়ার । আপনা আপনির মধ্যে, না দিয়েও পারা যায় না। রাম চাটুয্যের স্ত্রী এখন অনেক কিছু বুঝতে পেরেছেন, খুব আত্মীয়-স্বজনের মিষ্টি কথাও আর বিশ্বাস করেন না। তার জ্যাঠতুতে বোনের স্বামী একদিন এসে ধরে পড়লো—দিদি, ন’শো টাকা না দিলে নয় । হুণ্ডির ওয়াদা মেটাতে হবে কাল সকালে। বুধবারে নিজে এসে কিংবা হরিমতীকে আর বৃন্দাবনকে দিয়ে পাঠিয়ে