পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪০০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Oboe বিভূতি-রচনাবলী তোমাকে ডেকে পাঠিয়েছিলাম এই জন্যেই। খাওয়া-দাওয়া করো, সব কথা বলছি। প্রতুলকে ভাত দিলেন টক-ডাল ও কুঁচকলা ভাজা দিয়ে । অসময়ে আর কিছু ছিল না ঘরে। খেয়ে-দেয়ে উঠে প্রতুল বিশ্রাম করলে। তারপর উত্তরের বারান্দায় বসে রাম চাটুয্যের স্ত্রীর মুখে হরিপদর কীর্তিকলাপ সব শুনলে । হারাধন এসে বল্লে--প্রতুলদা, আমাদের এখানে থাকবে তো ? –তাই তো ভাবছি। --তোমাকে ছাড়ছি নে । —বেশ, কাকীমা বল্পে কি না থেকে পারি ? —ম সেজন্যেই তো তোমায় আনালে । তুমি ছাড়া আর চলবে না । হরিপদ তো আমার কথা একেবারেই শোনে না, মীর কথাও শোনে না, যা ইচ্ছে তাই করতো আজকাল । আমাকে বল্লে দশট টাকা দাও, চামডার ব্যাগটা সারাতে হবে । দিলাম। এখন দেখি যেমন ব্যাগ তেমনি আছে, গেল টাকাটা । জানকি মুচি বল্লে, কই আমার কাছে তো কেউ ব্যাগ সারাতে দিয়ে যায় নি। আমি দশ টাকা সারাবার জন্যে লেবো, তা বলিও নি । প্রতুল বল্লে—ঠিক ঠিক । দাড়াও, দেখি । কাকীমার মুখে সব শুনি, কি বলেন। আমার পোশাবে তবে তো থাকবে ? বারাসতে আমি বসে বসে শুধু টাইম-কীপারা করি, আধ ঘণ্টা কাজ, মধ্যে একঘণ্টা টিফিন, পঞ্চাশ টাকা মাইনে । তোমার মা কী দেবেন আগে বুঝি । বোঝাবুঝি সেদিনই সব হয়ে গেল। প্রতুল কাজে লাগলো পরের দিন থেকে । হারাধন নির্বিঘ্নে স্কুলে পড়তে লাগলো। ওর মায়ের মনের উদ্বেগ ও সন্দেহ সামান্য কিছু কমলেও একেবারে কমলো না, স্বামীর মৃত্যুর পর জগৎটাকে তিনি যে চোখে দেখতে পেয়েছেন তাতে কমবার কথাও নয় । প্রতুল গ্যারেজ থেকে বাস বার করতে গিয়েছে সকালে, পাশের পানের দোকানা বলরাম বল্লে, কি, প্রতুলবাবু যে ! এলে কবে ? —এই যে—ভালো ? কাল এসেছি । —বাস বেরুবে নাকি ? হরিপদর জায়গায় তুমি বুঝি এলে ? —স্থা । হরিপদও আসবে। সে এ লাইনে সাত আট বছর কাজ করছে, সে না এলে চলে ? দিন তিনেকের মধ্যে বাজারের রামদুলাল স্বর্ণকার, বোস কোম্পানি ঘড়িওয়াল, টুকু চকত্তি চায়ের দোকানী, কপিল আলুওয়ালী—মানে বাজারের বিশিষ্ট বিশিষ্ট ব্যবসায়ীরা দেখে অবাক হয়ে গেল রাম চাটুয্যের বাস সার্ভিস আবার চালু হয়েছে এতদিন পরে, বেশ দু’পয়সা আসছেও নিশ্চয় । প্রতুলের চিঠি পেয়ে হরিপদ এলো। বল্লে—আমার তো কোন অনিচ্ছা নেই, তবে হারাধনের চ্যাটাং চ্যাটাং কথা আমি শুনতে রাজী নই। আমি চাটুয্যে-মহাশয়ের পুরনে,