পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪০২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


రీూ বিভূতি-রচনাবলী —মন্দ না । এঞ্জিন দেখেশুনে কিনতে হবে। এ রুটে বড় কম্পিটিশন । বাইশ-চব্বিশখানা বাস চলচে, ভাবো ! এ ঠেঙিয়ে বিশেষ উন্নতির কোনো আশা দেখছিনে । –আচ্ছা বারাকপুর-কঁচরাপাড়া রুট, ? —বহু টাকার খেলা ৷ দুখান৷ বাসে হবে না। আবার তেমনি কম্পিটিশন । তুমি বরং চাকদা রুটের জন্যে চেষ্টা করে দেখতে পারে । —হয় যদি, তবে তোমাকে নতুন রুটে যেতে হবে হরিপদদা। ওটাকে গড়ে তুলতে হলে তুমি ভিন্ন আর কেউ পারবে না। বাধা আসরে তো সবাই গাইতে পারে! প্রতুলকে খুব পরিশ্রম করতে হল নতুন পথের সন্ধানে। ধানবাদে গিয়ে ওরা ডিসপোজাল থেকে আশানুরূপ জিনিস খুজে পেলে । নারকেলডাঙ্গার বসাক মোটর ওয়ার্কস থেকে বডি তৈরি করিয়ে নিয়ে এলো । রুটের লাইসেন্সের জন্যে খুব বেশি পরিশ্রম করতে হয়নি, কারণ ও রুটে কোনো খদের উপস্থিত ছিল না আদৌ। আপত্তি একটুখানি উঠেছিল কাজিপাড়ার ওসমান গনি মিঞার দিক থেকে । ওরা স্থানীয় সম্বাস্ত জমিদার, ওদের কোন জামাই নাকি বছর দুই পূর্বে লীগ মন্ত্রিত্বের সময় এ রুটের একটা লাইসেন্স পেয়েছিল, কিন্তু বাস চালায় নি, কারণ তখন পেট্রল এবং অন্যান্য মোটরের উপকরণ দুৰ্ম্ম ল্য ও দুষ্প্রাপ্য ছিল । প্রতুল নিজে বড় তরফের জমিদার সাহেবের সঙ্গে দেখা করে সব মিটিয়ে ফেলল। ঠিক হল, ভবিষ্ঠতে যদি কখনো ওদের জামাই বাস চালানোর ব্যবসায়ে নাবে, তবে এর যথেষ্ট সাহায্য করবে । রাম চাটুয্যের স্ত্রী গহন বন্ধক রেখে কিছু টাকা যোগাড় করলেন, শেষ পর্য্যন্ত বসতবাড়ী বাধা পড়লো কুণ্ডুদের কাছে পাশের বাড়ীর অনেকে এসে নানা রকম কথা বলতে লাগলো । এ ভাবে একেবারে সর্বস্বাস্ত হওয়া কি উচিত হল পরের কথা শুনে ? হলই বা বিশ্বাসী পুরনে। লোক । * 脅 কানাই দত্ত রাম চাটুয্যের পুরনো বন্ধু । তিনি স্থানীয় সম্রাস্ত দোকানদার ও প্রবীণ ব্যক্তি । সেদিন এসে বল্লেন—ও বৌদিদি, শুনলাম নাকি প্রতুল ছোড়াটার হাতে অনেক টাকা তুলে দিচ্ছো ? ব্যাপারটা কি ? —এসো বোসো ঠাকুরপো । তোমরা তো আর দেখলে না। ওই ছোড়াটা দেখতে এসেছে ব’লেই আজ না-হয় তোমরা সৎ-পরামর্শ দিতে এসেছে । , —একশোবার গালাগাল দেও, মারো বৌদিদি। ঠিক কথা। আমার কথা যদি বলো, হাপানিতে আমার হাড়সার করেছে বৌদিদি । বড় ছেলেটা দোকান দেখাশুনো করে। গোবরা, ছোটটা, মাল গন্ত করে বড়বাজারে । আসবার দেখবার ইচ্ছে থাকলেও পেরে উঠিনে । —কি বলছিলে ? —বলছিলাম, দেনা মহাজন মর্টগেজে—এ সব কি শুনছি? রাম দাদার আমলে কখনো এ কেউ শোনে নি। কেন পরের হাতে নাচছো ? দেনা করে কেউ কখনো ব্যবসা করে,