পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪০৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কুশল পাহাড়ী இதல் দেবেন—তাহলে দিন দু’শো টাকা বাধা রইলো । হারাধনকে মোটর এঞ্জিনিয়ারিং শিখতে দিতে হবে খুড়ীমা । আমাদের আপিসের কর্তা হতে হলে মোটর এঞ্জিনিয়ার হতে হবে। আমরা এক বৎসর পরের কথা বলছি। গত চৈত্র মাসে একবার আমরা রাম চাটুয্যের নতুন কাটা পুকুরে মাছ ধরতে গিয়েছিলাম। ভরাম চাটুয্যের নামে তার স্ত্রী পুষ্করিণী প্রতিষ্ঠা করেছেন, গ্রামে জলের কষ্ট ছিল খুবই । পুকুরের দক্ষিণ পাড়ে যে একটা নতুন বাড়ী খানিকটা উঠে বন্ধ আছে সিমেন্টের অভাবে—রাম চাটুয্যের নতুন বাড়ী সেট, প্রতুল ও হারাধন অনেক খাটছে বাড়ীটার পেছনে । প্রতুলকে আমি কখনো দেখি নি। ওর সমস্ত গল্পটাই আমি শুনেছি স্থানীয় লোকদের কাছে। আজকালকার এই অসাধুতার যুগে প্রতুলের কাহিনী আমার খুব ভালো লেগেছিল, অদূর ভবিষ্যতে একবার আলাপ করবার ইচ্ছে আছে ওর সঙ্গে । অভিমানী কাশী থেকে মোগলসরাই এলাম একেবারে নিঃসঙ্গল অবস্থায় । এর ছ'মাস আগে আমি মুঙ্গেরের পিসিমার বাড়ী থেকে কাশী আসি এমনি নিঃসম্বলে । মুঙ্গেরে পিসিমার বাড়ীও এসেছিলাম নিঃসঙ্গলে নিজের দেশ যশোর জেলার এক অজ পাড়াগ থেকে । উদ্দেশু, চাকরি খোজা । মুঙ্গেরে পিসেমশায় ও পিসতুতো ভাইয়েরা আশা দিয়েছিল চাকরি জুটিয়ে দেবে। তারা তা পারে নি কিংবা করে নি । পিসিমা কেবলই স্তোকবাক্য দিতেন, থাকো না বাপু দু'দিন । দেশ থেকে এয়েচ, জলে তো আর পড়ে নেই তুমি । এমন কিছু নয় যে ঘরে তোমার ছেলেমেয়ে কাদচে । বলে, আপনি আর কপনি । কিসের ভয় তোমার, একটা পেটের জন্তে ? না চাকরি জোটে, পিসিমার কুঁড়েতে দুদিন রইলেই বা । 錢 একথা আমার ভাল লাগলো না । কেনই বা আমি পরের বাড়ীতে বরাবর থাকতে আর খেতে যাবো ? তা হবে না । চাকরি না পাই, চলে যাবো এখান থেকে। চাকরি যদি না করবো, তবে দেশে কাকার সংসারে থাকলেই তো হত ! কিছুতেই যখন কিছু হল না, তখন একদিন কাউকে না বলে মুঙ্গের থেকে রওনা দিলাম। কাশী এসে অবিভি পত্র দিয়েছিলাম পিলিমাকে, আমি কাশী চলে এসেচি এবং ভালই আছি, তিনি না ভাবেন । কাশীতে এই ছ'মাস থেকেও কিছু জোটাতে পারি নি। ছত্ৰে ছত্রে খেয়ে বেড়িয়েচি, যাত্রীদের মুটেগিরি করেচি, কখনো বা হোটেলে বাসন মাজার কাজ করেচি–কিন্তু স্থায়ী চাকরী কিছুই জোটাতে পারি নি। এখন এমন দশায় এসে পড়েচি যে আর কাশী থেকে