পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪০৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Όίγν বিভূতি-রচনাবলী কোন লাভ নেই, খেতে পাবো না । আজ সকালে কাশী থেকে হেঁটে এসেচি মোগলসরাই । বাংলাদেশেই ফিরবো। সকালে একমুঠো ছাতুর দলা খেয়ে পেট-ভরে জল খেয়েছিলাম। সন্ধের সময় ডাউন পার্সেল এক্সপ্রেসে উঠবে ঠিক করে বসে আছি—অনেকে বল্পে ও ট্রেনে নাকি ভিড় কম হয়। আগে চার পাঁচখানা ট্রেনে ভিড়ের জন্যে উঠতে পুরিনি। ভুল করে একখানা মিলিটারি স্পেশালে উঠে বসেছিলাম, হাত ধরে জোর করে নামিয়ে দিয়েচে । তখন বেলা আড়াইটে । বেজায় খিদে পেয়েচে । সন্ধের বেশি দেরি নেই। আমি প্ল্যাটফর্মের একপ্রাস্তে বসে আছি। অামার কাছেই প্লাটফর্মের নীচে কয়েকজন পশ্চিমা লোক আট মাখচে ও ডাল বাছচে । ওদের মধ্যে একজন আধৰুড়ে লোক, রোগ, কালো, মাথায় একটা ময়লা নেকড়ার পাগড়ী জড়ানো—হিন্দিতে আমায় জিগ্যেস করলে, কোথায় যাবে ? —বাংলাদেশে । —মকান ? —ওই বাংলাদেশেই । —কোথায় এসেছিলে ? আমি সংক্ষেপে ওদের কাছে আমার কাহিনী সব বললুম। ওদের মধ্যে আর একজন ছোকরামত লোক বল্লে, কিছু খাও নি সারাদিন ? —ছাতু খেয়েছি ওবেলা । —এবেলা কি খাবে ? হাতে পয়সা আছে কিছু ? —ol | ওদের মধ্যে কি কথার বিনিময় হল । একজন দল ছেড়ে উঠে কোথায় গেল, মিনিট পনেরো পরে ফিরে এসে বল্লে, “বন হে গৈল বা ।” ওরা সকলে মিলে আমার মুখের দিকে চাইলে । কি বন্ধ হয়ে গেল, কি ব্যাপার, ওদের জিগ্যেস করলাম। যে লোকটি উঠে গিয়েছিল সে বল্পে, এখানে ছত্র আছে, মুসাফিরদের জন্তে আধসের আটা আর আধপোয়া ডাল সেখান থেকে দেয় । তোমার জন্যে আনতে গিয়েছিলাম । ত] বন্ধ হয়ে গিয়েচে । সেই পাগড়ী-বাধা লোকটি বল্লে, গিয়েচে গিয়েচে । তুমি আমাদের এই খাবার থেকে C C학R | আমি বল্লাম, না না, তা হয় না ! তোমরা খাও, তোমাদের খাবারে আমি ভাগ হসাবো কেন ? ওরা সকলে একযোগে আপত্তি করলে । রামজীর লীলা, তিনিই আমাকে ওদের সঙ্গে পরিচিত করিয়েচেন । তারা যদি না দিয়ে যায়, তবে ধৰ্ম্ম থাকবে কোথায় ?