পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪১০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


О3 e বিভূতি-রচনাবলী কি স্বন্দর । এদেশে আমি না খেয়েও পড়ে থাকবো । দিন দুই কাটলে । ওদের মধ্যে পাগড়ীপর আধাবয়সী লোকটির নাম মধেীলাল । অতি ভদ্রলোক, অবস্থাও বেশ ভালো। পাড়াগ অঞ্চলের বড় চাষী গৃহস্থ । পচিশ ছাব্বিশটা দুগ্ধবতী গরু বাড়ীতে, দুধ দেয় প্রায় এক মণ। ধান ও গম যথেষ্ট । মাধোলালের বাড়ীতে ওর মেয়ে রাখনি আমাকে বড় যত্ন করে। কেমন স্বন্দর মেয়ে, আর কি শাস্ত মুখশ্ৰী। এদেশের সকলের মুখেই সারল্য ও নিষ্কলুষতার ছাপ। স্থানটি সভ্য জগৎ থেকে অনেক দূরে, হিমালয়ের পাদপ্রাস্তে অরণ্যভূমির প্রাস্তদেশে । মাছ মাংস ডিম খুব মেলে । তবে এখানে মাছ বা মাংস সাধারণ লোক খায় না। দুধ ঘি প্রচুর—আগের চেয়ে এখানে এখন আক্রা হয়ে গেলেও অন্যদেশের তুলনায় যথেষ্ট সস্তা । এখানে এসে যেন একটা অদ্ভুত মায়ারাজ্যে এসেছি বলে মনে হল । যেমন সকালের রোদে তেমনি বিকালের রাঙা সূৰ্য্যালোকে দূরের তুষারাবৃত হিমালয় কি অদ্ভূত দেখায়! আমি গ্রাম থেকে বেরিয়ে বেড়াতে বেড়াতে বনের ধারে পাহাড়ী নদী কুসমাইয়ের ধারে শিলাখণ্ডে বসে থাকি । নদীটার ভাল নাম কি কুস্থমবতী ? এ যদি হয়, তবে ওর নাম সার্থক বটে। কত কি পুষ্পিত বন্যলতা ও গাছ যে ঝুকে পড়েছে কাচ-স্বচ্ছ জলের ওপর । যেখানে সেখানে শিলাখণ্ড ছড়ানে, যেখানে খুশি বসে থাকে। খুব বড় শিলাখণ্ড আছে, যার ওপরে আট দশ জন লোক স্বচ্ছন্দে বসে থাকতে পারে । সেখানে ছায়ায় বসতাম আপন মনে । ঘন জঙ্গল ও দূরের তুষারাবৃত শৈলশৃঙ্গের দিকে চেয়ে কত কি ভাবতাম নির্জনে । খেতে পেতাম না কাশীতে। তার আগেও কাকার সংসারে কি হেনস্থা, কি লাঞ্ছনা না গিয়েচে । হাতে পয়সা না থাকলে সবাই নীচুচোখে দেখে। এখানে এসে আনন্দ পেয়েচি, শাস্তি পেয়েচি ৷ মাধোলাল আমায় ছেলের মত যত্ন করে, অামি ওকে কাক বলে ডাকি । এ কাকা আর আপন কাকার কি তফাৎ তাই ভাবি । দু-চারটি ছেলে-মেয়েকে ইংরিজি পড়াই। সারা গ্রামে মুলী চমনলাল আর আমি, এই দুটি মহাজ্ঞানী পণ্ডিতব্যক্তি বিদ্যমান। বাকী যারা, তারা কায়ক্লেশে নাম সই করতে পারে । রাখনি সন্ধ্যায় বলে, বাঙালী বাবু, আমি আজ তোমার জন্যে ভাওরা পাকাবো। খাবে তো ? - —সে কি ? —ভাওরার নাম শোনো নি ? রাখনি খুব অবাক হয়ে যায়। এ আবার কোন দেশের লোক, যে ভাওরার নাম শোনে নি! সে হাত নেড়ে দেখিয়ে বলে, আটার হয়, এমনি গোল গোল । ঘুটের আগুনে পোড়াতে হয়। ঘি জবজবে, আলুর চোখা দিয়ে খেতে হয় । —আলু ভাতে দিয়ে ভাল লাগে? —খুব । খেয়ে দেখো । আর বাঙালী বাবু—