পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪১৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


లిఏg বিভূতি-রচনাবলী নিয়ে চলে এসেচি–পুলিশে হয়তো উৎপাত করতে পারে। এক ধৰ্ম্মশালায় উঠে দিন-তিনেক থেকেই রাখনিকে নিয়ে কনখলে গেলাম। এক পাণ্ডার বাড়ী ওকে রাখলাম। রাখনি বলে, তোমার কাছে থাকবে, এখানে কেন ? তুমি জায়গা ঠিক কর । আমরা দুজনে সেখানে থেকে ভগবানের নাম করবো । দিন দিন একটা আশ্চর্য্য ব্যাপার লক্ষ্য করতে লাগলাম। হরিদ্বারে এসে পৰ্য্যন্ত ভগবানের পথে যাবার জন্যে ওর প্রাণ ব্যাকুল হয়ে উঠতে লাগলো। & এক বাঙালী সাধুর সঙ্গে খুব আলাপ হয়ে গেল গঙ্গার ধারের ঘাটে। তার নাম স্বামী বাস্বদেবানন্দ । তার আশ্রমেও আমরা গেলাম । কনখলে গঙ্গার ধারে একটা পুরনো দোতলা বাড়ীতে তিনি থাকেন । স্থানটি নির্জন, বাধানে ঘাট পুরনো বাড়ীর নিচেই, পুরনো মন্দির ঘাটের ওপরই । কিভাবে আলাপ হল তা বলি । আমরা সেই পুরনো ভাঙা ঘাটে গিয়ে বসেছিলাম । সন্ধ্যেবেলা । ওপারে কি একটা পাহাড়, পরে নাম শুনেছিলাম চণ্ডীর পাহাড় | রাখনির বেশ গলা, ও গুন গুন করে ওর বাবার মুখে শেখা একটা রামজীর ভজন ধরলে । দেখি ওর চোখ ছলছল করচে । বল্লাম—-রাখনি, আর একটু জোরে গাও, বেশ লাগচে– —না, গাইবো না । —মার খাবে জোরে না গাইলে । দুজনেই হেসে উঠি । সত্যি, কি সুন্দর কেটেচে এই হরিদ্বারের গঙ্গার ধারের দিনগুলি মনে মনে তাই ভাবি । কি মুন্দর সন্ধ্যা, কি চমৎকার জ্যোৎস্নার আলো গঙ্গার নীলধারার ওপর । আমরা বসে আছি, এমন সময়ে ঘাটের ওপরের মন্দিরে আরতির ঘণ্টা বেজে উঠলো । আমরা ঘাট থেকে উঠে আরতি দেখতে গেলাম। মুন্দর কৃষ্ণমূৰ্ত্তি। আরতির পরে বৃদ্ধ পূজার আমাদের হাতে প্রসাদের বাতাসা বিতরণ করলেন । স্বজাতীয় চেহারা দেখে মনে হল তিনি বাঙালী। দেখলেই ভক্তি হয়। রাখনি বল্পে, জিগ্যেস করে না উনি কি এ মন্দিরে থাকেন ? আমি বিনীত ভাবে বল্লাম–আচ্ছ, আপনি কি বাঙালী ? তিনি হেসে বল্লেন, হ্যা। তুমিও তো বাঙালী ? —জাত্তে হ্যা । —কোথায় উঠেচ এখানে ? —এক পাণ্ডার বাড়ী । আমি তাকে রাখনির বিবরণ সব খুলে বল্লাম। রাখনিও ছলছল চোখে দেহাতি-হিন্দিতে তার মনের কথা খুলে বল্পে । আমরা তার আশ্রয় প্রার্থনা করলাম। তার আশ্রমে আমাদের স্থান দিলেন । রাখনি কি খুশি ! সাত দিনের মধ্যে সে সাধিকা সন্ন্যাসিনী ব’নে গেল, পনেরো বছরের মেয়ে !