পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪১৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী وان هنا পেছনের দিন পেছনেই পড়ে থাকে, আর কোনোদিনই সামনে এসে এগিয়ে দাড়ায় না। আমি এসে আবার কাকার বাড়ী ঢুকেচি। কাকার গরুবাছুর বঁধি, হাটবাজার করি, খুড়ীমার মূখনাড়া খাই, সঙ্গে সঙ্গে দুটো ভাতও । নয়তো এ বাজারে ভাত পাচ্ছি কোথায় । শিকারী জংলী দেহাতি বালক মাগনিরম । রামজীর কাছে মেগে ওকে নাকি কোলে পাওয়া গিয়েছিল । এরা ভগবানের কাছে ও মানুষের কাছে বিনয় প্রকাশ করতে অভ্যস্ত, তাই বৈশু-বণিকদের মত কুরুচি প্রদর্শন করে না ছেলের লাখপতিয়া দৌলতরম' প্রভৃতি নাম রেখে। বাপড়িশোল গ্রামে ওর বাড়ী । মোটরের রাস্ত থেকে বী-দিকে বেরুনো সরু রাস্ত। এই রাস্তার কিছু দূরে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের শিমূল গাছের আবাদ । প্রায় তিন চার একর জমিতে শুধু দেড়শো দুশো শিমূল গাছ। ফান্ধন চৈত্রে ফুল ফুটলে কি অদ্ভূত দেখায় রাস্তা থেকে, নিম্পত্র বড় বড় গাছগুলিতে আগুন-রাঙা পাপড়ি জলচে শিমূল ফুলের । শিমূল গাছের আবাদ পার হয়ে একটা নদী, নাম বরজোর নালা, বড় বড় শিলাখণ্ডের পাষাণবাধানে তটভূমির ওপর ছায়ানিবিড় বনপদশ্রেণী, তাদের তলা দিয়ে বর্ষার জলে ফুলে ফেঁপে দ্বিগুণ হয়ে বরজোর নালা ছুটে চলেচে অদূরবর্তী শস্থনদীর দিকে । শঙ্খনী আবার মহাডাল পাহাড়শ্রেণীর তলায় গিয়ে মিশেচে মহানদীর সঙ্গে । সেটা কোথায় গিয়েচে, ঝাপড়িশোল গায়ের লোক অত খবর রাখে না। বরজোর নালা পার হয়ে চুকুরদি-তুরুকদি রিজার্ভ ফরেস্ট। চুকুরদি একটা খ্ৰীষ্টান গ্রামের নাম, গ্রামের মধ্যেই ওদের পুরু কর্কশ সাবাই ঘাসে ছাওয়া ধাওড়া চালাঘরের গীর্জা। দেওয়ালের শালকাটির ফাক দিয়ে উকি মারলে দেখা যাবে একখানা মাত্র টিনের ভাঙা চেয়ার গীর্জাঘরের একমাত্র আসবাব বগোদর থেকে মাসে একবার পাদ্রি সাহেব এসে এদের নিয়ে উপাসনা করেন ও শাস্ত্রকথা বলেন, তার জন্যেই এই চেয়ারখানা যোগাড় कुद्रां ज्वांग्छ । চুকুরদি গ্রাম পেরিয়ে মহাডাল পাহাড়ের তিনশো ফুট একটা শাখা পার হয়ে, একটা বৃদ্ধ মাদার গাছ পার হয়ে বনবেষ্টিত বনকাটি গ্রাম । মাত্র ছাব্বিশ ঘর লোকের বাস, কোল ও মুণ্ডা জাতীয় লোক, এরা খ্ৰীষ্টান নয় । গ্রামের বাইরে এদের বড় বড় শালগাছের মধ্যে বোঙ্গাপূজার স্থান । মারাং বোঙ্গ অর্থাৎ সূর্য্যদেবের উদ্দেশে এখানে মুরগী বলি দেওয়া হয়, গায়ের সবাই বছরে একদিন রোধে খায়। হাড়িকুড়ি ফেলে যায় বোঙ্গাতলার এক পাশে । বছর বছর জমেচে পুরনো হাড়ির পাহাড়।