পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪২০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


80ல் বিভূতি-রচনাবলী হতে পারতো। তার বাবা বুড়ো হয়েচে । বাবার হাত থেকে কাজ নিতে হবে এবার তাকে । বাবাকে স্বখে রাখতে হবে । মাগনিরাম কবির দৃষ্টিতে জগৎটাকে দেখে। বাবাকে সাহায্য করতে হবে, স্বর্থী করতে হবে, এটা হল কল্পনা-প্রবণ হৃদয়ের কথা। কিন্তু বাইরের দুনিয়াটা শুধু কল্পনাতে চলে না। কল্পনাকে কার্য্যে পরিণত করবার কৌশলও শেখা দরকার । মাগনিরাম সেখানে নিজেকে অসহায় বোধ করে | কতদিন একলা বসে বসে কি ভাবে সেই জানে । বাবা কত বড় হয়ে যাবে একশো টাকা পেলে ! কাড়া কিনবে | কাঁড়ার দুধ খাবে। গরমিণ্টোর মিঠাই আনিয়ে খাবে দুজনে । তার মা কবে মারা গিয়েচে ছেলেবেলায়, তার মনেও পড়ে না । বাবা তাকে মায়ের মত করে মানুষ করেছিল । এখন সে যদি বাবাকে না দেখে, কে দেখবে ? সেদিন সে শুনলে নিমপুরা আর বরজোর নালার ধারে রোজ রাত্রে পাগলা হাতীট নামচে । মাগনিরাম কাউকে কিছু না বলে বিকেলের দিকে একাই চলে গেল বরজোর নালার ধারে । বর্ষায় বরজের নালার কূল ছাপিয়ে জল উঠেচে এপারে বাজরা ক্ষেতে । ওপারে পাহাড় স্বতরাং জল সেদিকে না বেড়ে এই কুলকেই ভাসিয়েচে । বাজরা ক্ষেতে হাতীর পায়ের দাগ সৰ্ব্বত্র, ক্ষেত তচনচ করেচে হাতী । স্বমুখ জ্যোৎস্না রাত। মাগনিরাম ঢেমন সাওতালকে অনেক খোশামোদ করে দুটি বিষমাখ শলা সংগ্রহ করেচে। বাশের চোঙায় ফু দিয়ে সেই বিধমাখানো শলা কি ভাবে ছুড়তে হয় সেট। সে দু-একবার দেখে নিয়েচে বটে, কিন্তু নিপুণ হাতে চালায় যারা, তারাই শলা চালাতে ইতস্তত করে, আনাড়ি মাগনিরামের কথা তো অনেক দূরের। মাগনিরাম বরজোর নালার ধারের একটা কুলগাছে উঠে বসে রইল সন্ধ্যার আগে থেকেই । আপন মনে গুন গুন করে গান করতে লাগলো। যদি আজ হাতীট নামে । অনেক রাত্রে সত্যি নামলো পাগলা মাদী হাতীট । হাতী নয়, সাক্ষাৎ শমন। আজই সন্দেবেলা এই খানিক আগে নিমপুরার একটি বুড়ে ক্ষেতপাহারাদারকে খুন করে এসেচে, তার শু ড়ে তখনো টাটকা রক্তের দাগ । - মাগনিরাম উত্তেজিত হয়ে উঠলো। একশো টাকা রোজগার করে বাবাকে আনন্দ দেবার চরম মুহূৰ্ত্ত সমাগত। দেরি করলে চলবে না। ঠিক যখন হাতীট বরজোর নালার ধারে কুলগাছের পাশে এসেচে, মাগনিরাম বাশের চোঙে ফু দিয়ে শলা ছুড়লো । এর পরের ঘটনা টের পাওয়া গেল পকালবেলা । বাজরা ক্ষেতের মধ্যে তিন জায়গায় মাগনিরামের দেহের তিনটি রক্তাক্ত খেলানো