পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


अऐथ छल ३७ বসলে গায়ের দিকে আর দেখবে না, এ বাড়ী ঘর কত যত্নে করা—সব নষ্ট হবে। আশখ গাছ গজাবে ছাদের কানিলে, আম-কঁাটালের বাগান বারোভূতে খাবে। পৈতৃক ভিটেয় পিদিম দেবার লোক থাকবে না । গায়ের লোকও ভাল ভক্তিার চেয়েও পাবে না। এদের উপকার করে । বাবার ইচ্ছার কোনো প্রতিবাদ করি নি। আমার অর্থের কোনো লালসা ছিল না। স্বচ্ছল গৃহস্থ ঘরের ছেলে, খাওয়া পরার কষ্ট কখনো পাই নি। গ্রামে থেকে গ্রামের লোকের উন্নতি করবে।—এ ইচ্ছাটা আমার চিরকাল আছে—ছাত্রজীবন থেকেই। গ্রামের লোকের ভাল করবে। এই দাড়ালো বাতিক। এর জন্যে যে কত খেটেছি, কত মিটিং করে লোককে বুঝিয়েছি! পল্লীমঙ্গল সমিতি স্থাপন করেছি, নিজে দাড়িয়ে থেকে গ্রামের জঙ্গল পরিষ্কার করিয়েছি, গায়ে গায়ে গিয়ে জন-স্বাস্থ্য সম্বন্ধে বক্তৃতা দিয়েছি। ঠিক সেই সময় একটি ঘটনা ঘটলো । হরিদাস ঘোষের স্ত্রীর নামে নানা রকম অপবাদ শোনা গেল। বাইশ-তেইশ বছরের যুবতী, স্বামী কলকাতায় ঘিয়ের দোকান করে, মাসে দু-একবার বাড়ী আসে কি-না সন্দেহ। পাশের বাড়ীর নিবারণ ঘোষের ভাইপোকে নাকি লোকে দেখেচে অনেক রাত্রে হরিদাসের ঘর থেকে বেরুতে । আমার কাছে রিপোর্ট এল। দুনীতির ওপর আমি চিরদিন হাড়ে চটা, মেয়েটিকে কিছু না বলে নিবারণ ঘোষের ভাইপোকে এক দিন উত্তম মধ্যম দেওয়া গেল। হরিদাস ঘোষকেও পত্র লেখা গেল। তারপর কিসে থেকে কি ঘটলো জানি নে, একদিন হরিদাসের স্ত্রীকে রান্নাঘরে ঘরের আড়া থেকে দোদুল্যমান অবস্থায় দেখা গেল। গোয়ালের গরুর দড়ি দিয়ে একাজ নিম্পন্ন হয়েচে । তাই নিয়ে হৈ চৈ হোল, আমি মাঝে থেকে পুলিশের হাঙ্গামা মিটিয়ে দিলাম। লোকের ভালো করতে গিয়ে অপবাদ কুডুতেও আমি পেছপাও নই। স্থনীতিকে কোনো রকমে প্রশ্ৰয় দেবো না এ হোল আমার প্রতিজ্ঞ । এতে যা হয় হবে। বড় মুখুয্যেমশায় গ্রামের সম্রাস্ত ও প্রবীণ লোক । কোন মামলা মোকদ্দমা বাধলে মামলা মিটিয়ে দেবার জন্তে উভয় পক্ষ তাকে গিয়ে ধরতে - ছ পক্ষ থেকে প্রচুর ঘুষ খেয়ে একটা যা হয় খাড়া করতেন । আমি ব্যবস্থা করলাম, পলীমদল সমিতির পক্ষ থেকে গ্রামের ঝগড়া-বিবাদের স্বমীমাংসা করে দেওয়া হবে, এজন্যে কাউকে কিছু দিতে হবে না । দু-একটা বিবাদ এভাবে মিটিয়েও দেওয়া গেল। মুখুয্যে জ্যাঠামশায় আমার ওপর বেজায় বিরক্ত হয়ে উঠচেন শুনতে পেলাম। একদিন আমায় ভেকে বললেন—শশাঙ্ক, তোমার সঙ্গে একটা কথা আছে। —আজ্ঞে বলুন জ্যাঠামশায় ? —তুমি এসব কি করচো গায়ে ? —কি করচি বলচেন ? —চিরকাল মুখুয্যেদের চণ্ডীমণ্ডপে সব ব্যাপারের মুড়ে মরেচে। তোমায় কাল দেখলাম ষ্ঠাংটো হয়ে বেলতলায় খেলে বেড়াতে, তুমি এ সবের কি বোঝে যে মামলার মীমাংসা