পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪৩৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কুশল পাহাড়ী * 83% দিতে হবে ঠাকুর, বলুন যে আমার বাড়ী একদিন পায়ের ধুলো দেবেন ? আমি অতি নীচ জাত। তবু নীচকেও তো উদ্ধার করতে হবে ? নীচ জাত যাবে কোথায় ? বলুন, কিরূপ করবেন তো ? আমি বল্লাম—যাবো । আজ যাও । আর, হরিমন্ত্রে তোমায় দীক্ষা দিলাম। ওটি ভুলো না । সে চলে গেল । যখন যাচ্চে তখন আমি স্পষ্ট শুনলাম সে হরিনাম করতে করতে গেল । আপনি অবিশ্বাস করতে পারেন, কিন্তু আমি স্বকৰ্ণে শুনেচি । আর একটা কি হল জানেন, যখন ও চলে যাচ্চে তখন আমার মনে সে কি অপূৰ্ব্ব ভাব ! আমি ওর দিকে চেয়ে আছি, ও ক্রমে দূরে সরে যাচ্চে, আমার মনে যেন কে বলচে—আহ, কষ্ট পাচ্ছিল,উদ্ধার হয়ে গেল উদ্ধার হয়ে গেল ভগবানের নাম মহীপুণ্য । সেই পুণ্য আজ ওর হল । বেঁচে গেল লোকটা, বেঁচে গেল । কে দয়া করে এই ঘটনাটির যোগাযোগ ঘটালে কি জানি ! এই সন্ধ্যাবেলা আমাকে উপলক্ষ্য করে কে যেন এই পাপীতাপীকে হরিনাম বিলিয়ে উদ্ধার করে গেল । - এইবার আমীর পালা । বল্লাম—সতীশ বাগদীর বাড়ী গিয়েছিলেন ? —শুহূন বলি । সেই শ্রাবণ মাসে অবসর পেয়ে ভাবলাম ডহরাপাড়া গ্রামে যাবে। কাটোয়ার বাজারে একটা দোকানে বসে ওই গ্রামের নাম বলতে একজন বল্লে—সে গ্রামে কোথায় যাবেন ? আমি বল্লাম, সতীশ বাগীর বাড়ী । সে লোকটা বল্পে—লেঠেল সতীশ বাগদী ? —ত হবে । —তাকে আপনি চিনতেন ? -—একবার আলাপ হয়েছিল । —সতীশ নেই। মাস দুই হল কলেরায় মারা গিয়েচে । মনে মনে সতীশের আত্মার মঙ্গলকামনা করে কাটােয় স্টেশনে ট্রেনে চড়লাম। সীতানাথের বাড়ী ফেরা সীতানাথ আজ দুমাস পরে বাড়ী যাচ্চে । ট্রেন ছাড়তেই সে আনন্দে একটা গান ধরলে গুন গুন করে। কিন্তু তখনই মনে হল, উ, খোকার কাছে পৌঁছুবে সে কি আজ ? বাবা, আজ সারারাত ট্রেনে কাটবে। এ দুমাস সে যে কি করে ছিল, সেই জানে । যখন সে চলে আসে, বাড়ীর কাছে ইস্টেশান, আড়াই বছরের খোকা পিটু তার জামা আকড়ে ধরে বল্পে—বাবা, আমি তোমার সঙ্গে যাবো ।