পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪৩৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কুশল পাহাড়ী gðë ক্রমে ওর মূৰ্ত্তি মিলিয়ে গেল। স্টেশন দূরে চলে গেল । সীতানাথের চোখ জলে ভরে এসেচে। পাছে গাড়ীর লোক টের পায়, সে জানলার বাইরে চেয়ে রইল ! একজন কে বল্লে—আপনার ছেলে বুঝি ? -इँTीं । অপরিচিত লোকের সঙ্গে এ নিয়ে বেশি আলোচনা করবার ইচ্ছে নেই সীতানাথের । তা ছাড়া তখন কান্নায় তার গলার স্বর আড়ষ্ট । সে তাড়াতাড়ি জানলার বাইরে চেয়ে যেন মনোযোগের সঙ্গে আকাশের মেঘ লক্ষ্য করতে লাগলো। নইলে তার চোখের জল সবাই টের পেয়ে যাবে। সকলে ভাববে, ছেলেকে ফেলে রেখে আসতে হল বলে অত বড় মানুষটা কঁদিচে ! এরা কি কিছু বুঝবে তার মনের ব্যথা ? এরা কি বুঝবে খোকাকে ছেড়ে থাকতে হবে বলে কাল সারারাত তার ভালো ঘুম হয়নি । কাল সারাদিন খোকাকে সে কাছছাড়া করেনি, থোকাও তার কাছছাড়া হয়নি। কেবল বলেচে–বাবা, কাল তোর সঙ্গে আমি ন’টার গাড়ীতে যাবো । নিয়ে যাবি তো ? —কেন, তুই মার কাছে থাকবি । —না, তাহলে আমি কঁদবো । —তোকে না দেখলে তোর মা কাদবে। —কাল আসবো । —রাত্রে কার কাছে শুবি ? —তোর কাছে । —খবি কি ? —মুকি । ছতিনটে স্টেশন গেল সাতনাথের কান্না সামলাতে । ওকে না দেখে খোকা এই দু মাস কেমন করে থাকবে ? ওই বা কেমন করে থাকবে খোকাকে না দেখে ? চাকরিতেও ছুটি পাবে ন, বা তেমন অবস্থাও নয় যে অতদূর থেকে খোকাকে সে দেখতে আসবে। এ দু মাসের প্রত্যেকটা দিন প্রত্যেকটা মুহূৰ্ত্ত সে খোকার কথা ভেবেচে । এক এক সময় বডড অসহ হত, হাতের কলম ফেলে দিয়ে সে চোখের জল চাপতে বাইরে এসে দাড়িয়ে থাকতে সে সময় । একদিন তার মুখ দিয়ে যন্ত্রণার চোটে উঃ শব্দ বেরিয়ে গিয়েছিল। পাশে নলিনী গুহ বসে, সে ওর মুখের দিকে চেয়ে বল্লে—কি হল ? ও বল্লে—পেটে বড় যন্ত্রণা হচ্চে ভাই । —পেটে ? কি খেয়েছিলেন ? —ইলিশ মাছ । —তাই। নরেশবাবুর কাছ থেকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ এক ডোজ খেয়ে আম্বন না ? বডড কষ্ট হচ্চে ? —এখন একটু কম ।