পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪৩৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিভূতি-রচনাবলী שצ8 ছেলেমেয়েদের জন্যে নিয়ে যান, আগে খান পরে দাম। ভাই সকল ! ভালো কেক্‌, প্রতুল কোম্পানীর ইংলিশ কেক্‌ ৷” —এই কেক্‌! এদিকে এসো। কত দূরে ? ভালো হবে তো ? —নিয়ে যান না মশায় । এই গাড়ীতে আজ এক বছর ধরে আমি কেক্‌ বিক্রী করচি। সবাই আমায় জানে। প্রতুল কোম্পানীর কেকু বল্পে সবাই চেনে। ভালো না লাগে লাইনের ওপর ছুড়ে ফেলে দিন, দাম ফেরৎ দেবে-— —আচ্ছা দাও চারখানা । চোদ্দ পয়সা দিই— খোক এ জিনিস কখনো খায় নি। পাড়াগায়ের শিশু—সে চিনেচে শুধু মুড়কি। বড় খুশি হবে। এ কোন স্টেশন ? এখনো মদনপুর আসে নি ? না, এদের নিয়ে আর পারা গেল না ! এঞ্জিনের কয়লার আঁচ কি নিবে গেল নাকি ? রা-শা-ঘাট --- তাড়াতাড়ি নেমে পড়লে সে । ওদিকের লাইনের গাড়ীর কত দেরি ? আচ্ছা আগে মুড়কি-টুড়কি কেনা যাক না ? পাকা কলা বিক্রী হচ্চে। খোকা কলা খেতে ভালবাসে। একবার খোকা বলেছিল—আমাকে একটা পয়সা দিও। —কেন রে খোকন ? —আমি তোকে কলা কিনে দেবো । হায়রে ! খোক, তুই জানিস নে, এক পয়সায় আজকাল কোন জিনিসটা পাওয়া যায় ? তুই সেকেলে সরল শিশু, কিছুই বুঝিস নে। সাড়ে তেরো আনা গেল মুড়কি আর কলা কিনতে । তাও মাত্র চারটি পাকা কলা খোকনের জন্যে। পাচ পয়সা করে এক একটি কলা । মুশকিল হল টিকিট করতে এসে । ওর মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো । বন্যার জলে হরিনারানপুরের নীচে কোদলা নদীর পুল ভেঙে গিয়েচে–লাইনের ওপর জল । ট্রেন চলাচল আজ তিন দিন বন্ধ আছে । কবে খুলবে তা কেউ বলতে পারলে না। দেশ বন্যাতে নাকি ভেসে গিয়েচে । সৰ্ব্বনাশ ! সীতানাথের কান্না এল প্রায় । " এখন সে কি করে ? তিন দিন সে থাকবে কোথায় ? তাকে তাহলে আবার সাহেবগঞ্জে ফিরে যেতে হবে । কত জিনিস যে খোকার জন্যে কিনেছিল। মুড়কি, কল, লেবেঙুল। সে সব কি হবে ? একজন লোকের সঙ্গে হঠাৎ ওর দেখা হয়ে গেল। তার মুখে ও শুনলে চুনী নদীর ঘাট থেকে নৌকো ভাড়া পাওয়া যায় ওদিকে যাওয়ার জন্যে। সে নিজে যাবে কোলা-ফুলবেড়ে গ্রামে । সীতানাথের গ্রাম কুলবেড়ে থেকে কোলা-কুলবেড়ে পাচ ছ' ক্রোশ উত্তরে । একখানা নোঁকে ওরা ভাড়া করলে চুনী নদীর ঘাট থেকে। * বেলা ন’টার সময় নৌকো ছাড়লো। মাঝির মুখে শুনলে তাদের গায়ের দিকে বন্যা নেই। হরিনারানপুরের নীচে পুল ভেঙেচে কোদলা নদী ও ভাঙড় নদীর বানে। মাৰিকে বলে— কতক্ষণে কুলবেড়েতে ভেড়াতে পারবে ?