পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


88३ বিভূতি-রচনাবলী আমি বল্লাম—কাক, আপনাদের সেই মাদ্রাজী মহাজন আছেন ? —তিনি নেই। র্তার ছেলে এখন ব্যবসা দেখে । এই তো সেদিন বিয়ে হল, দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে । —দেড় লক্ষ । —সে কি আর এমন বেশি টাকা ? —নাম কি মহাজনের ? —কৰ্ত্তার নাম কে. বি. রামনাথ চেট। সেই নামেই ফার্ম। মস্ত বড় কারবার। ঝাল, হলুদ, তেঁতুল, চাল এই সব চালান দেয়। বম্বে, কলম্বে, রেজুন আর সিঙ্গাপুরে ওদের ব্রাঞ্চ । আমি তো বড় ব্রোকার ওদের ফর্মের। এ বছর পঞ্চান্ন হাজার টাকার বাল কিনলাম পূর্ববঙ্গের মোকাম থেকে । আমি না হলে ওদের কাজ চলে না। ঝাল খরিদ আর কেউ করতে পারে না, বড় শক্ত কাজ। সতীশকে লাগিয়েছি আমার কাজে । ওকে পাঠালাম দৌলত থ মোকামে, আমি রইলাম বরিশালে । মহাজন বল্পে, যত পার কেনো। আমি টেলিগ্রাম করলাম, ঝালের বাজার এবার খারাপ, কিনবো না । সাড়ে পঞ্চান্ন হাজার টাকার মাল কিনলাম বাপ-বেটায় । আমাদের গ্রামের ভদ্রলোকের সাড়ে পঞ্চান্ন টাকা এক জায়গায় কচিং কখনো দেখেচে, টাকার অঙ্ক শুনে শুধুই করে চেয়ে থাকে। একদিন দেখি সাতকড়ি বৈঠকখানায় বসে লোকজনের মাঝখানে কি একটা নক্সা বার করে সকলকে বোঝাচ্ছে । সেটা নাকি কলকাতার হবু বাড়ীর নক্সা। কটা ঘর হবে, কোথায় মোটরের গ্যারেজ হবে, এই সব বোঝাচ্চে সমবেত গ্রাম্য ভদ্রলোকদের । এইভাবে চললে ওদের কাজ, আমার স্কুল ও কলেজের দিনগুলোতে ৷ ভাগ্যলক্ষ্মী ওদের ললাটে নিজের হাতে তিলক একে চিহ্নিত করে দিয়েছেন, নিজে শাক বাজিয়ে টাকার থলি তুলে দিয়েছেন ওদের কলকাতার বাড়ীর দামী লোহার সিন্দুকে । এরপর অনেক দিন কেটে গেল । s বিদেশে বেরিয়েছি চাকরি করতে, গ্রামের সঙ্গে সম্বন্ধ কম। ওদের খবর তত কানে পৌঁছোয় না। তবে এটুকু শুনেছি, সতীশের বাবা ঝালের ও লোহার কারবার ফেলে পরলোকে প্রস্থান করেচেন। সতীশই এখন কারবারের মালিক । r একবার পূজোর সময় দেশে এসেছিলাম সাত দিনের জন্যে। সতীশও সেবার এল তার স্ত্রীপুর নিয়ে ঝকমকে এক নতুন মোটরে চড়ে কলকাতা থেকে। ছ'দিন মাত্র রইল। দুজন কলকাতার বন্ধুও সঙ্গে এসেছে। খুব হৈ-হৈ করলে । সন্ধ্যাবেলা ওদের বৈঠকখানায় গেলাম। গিয়ে দেখি বন্ধুদের নিয়ে সতীশ মদ খাচ্ছে । আমাকে দেখে বল্পে, আরে এসো এসে রামলাল, আজকাল কোথায় আছ ? —শিলিগুড়ি। ভাল আছ সতীশদা ? —চলে যাচ্ছে ।