পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৪৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


कूभंज श्रांझांज़ेौ .8&@ ভাবে পাশের ফুলট-বাজিয়েকে বলে—অখিনীবাবু —কে ? —ঐ যে অশ্বিনীবাবু— অমনি ফুলুট বাজিয়ে বাশিটা নামিয়ে রেখে আস্তে আস্তে অশ্বিনীর কাছে এসে হাতজোড় করে বঙ্গে—আস্বন, আম্বন অশ্বিনীবাবু, আম্বন ! আপনি এখানে ? অশ্বিনীর দিকে চেয়ে দেখি ওর গলার স্বর ও মুখের ভাব বদলে গেচে । আমার সঙ্গে খানিক আগে যে স্বরে কথা বলছিল সে-স্বর আর গলায় নেই, সে মানুষই আর ও নয় । গম্ভীর স্বরে বল্পে –একটু কাজে এসেছিলাম এখানে—আপনি বোধ হয় দলের ম্যানেজার ? —আঞ্জে হ্যা, আমাদের সৌভাগ্য যে আপনার মত লোক আজ এখানে । আমি মনে মনে ভাবচি, ব্যাপার কি ? অশ্বিনী কি কাজ করে ? এত বড় দলের ম্যানেজার স্বয়ং এসে ওকে অভ্যর্থনা করচে–নবাব খানজা খা হয়ে গেল নাকি অশ্বিনী, অবাই দাস বোষ্টমের ছেলে ? অশ্বিনী আমার হাত ধরে এগিয়ে নিয়ে এসে বল্পে—ইনি আমার বিশিষ্ট বন্ধু, ব্রাহ্মণের ছেলে, একে একটু ভাল জায়গায় বসিয়ে দেবার বন্দোবস্ত করতে হবে—ইনি বসবার জায়গা পাচ্ছেন না । আমি লক্ষ্য করছি, যাত্ৰাদলের বাজিয়েরা সকলে এ ওকে আঙুল দিয়ে অশ্বিনীকে দেখাচ্চে আর সকলেই কৌতুহলের দৃষ্টিতে ওর দিকে তাকিয়ে। যেন কি দুর্লভ বস্তুর দর্শনলাভ আজ ঘটেচে ওদের ভাগ্যে, ভাবখানা এই রকম । আমি নিজেও আশ্চৰ্য্য হয়েছি মনে মনে । কেন অশ্বিনীকে এতক্ষণ জিজ্ঞাসা করি নি যে ও কি করে ? না, সে আর জিগ্যেস করাই হবে না । ও-ই বা কি মনে করবে। আমাকে ত ওরা পরম যত্বে হাত ধরে নিয়ে গিয়ে বসালে, সেই সঙ্গে অশ্বিনীকেও । দলের কে একজন আমার হাতে একটা সিগারেট দিয়ে বল্পে, খান । অশ্বিনীকেও দিতে গেল, অশ্বিনী আমাকে ইঙ্গিতে দেখিয়ে বঙ্গে—বাপরে, ওঁয় সামনে খাইনে । আমাদের গ্রামের জমিদারের ছেলে । এই সময় ম্যানেজার হাতজোড় করে অশ্বিনীকে বল্পে—এইবার আপনি একটু বাঙ্গন দয়া করে । আপনি এখানে বসে থাকতে কেউ পাখোয়াজে হাত দিতে সাহস করচে না । —না না, তাতে কি । হোক, আমি শুনি । বেশ বাজান উনি । মুরুবিয়ানা চালে এটা বল্পে অশ্বিনী । —আজ্ঞে না, আপনি আসরে বসে থাকতে কারো সাহস হচ্চে না বাজাতে । একখানা বাজিয়ে দিন আপনি । - পাখোয়াজ-বাজিয়েও একবার এসে হাতজোড় করে বঙ্গে—আপনি আমাদের গুরুস্থানীয়, মাথার মণি । আজ্ঞে, আপনি এখানে থাকতে বাবু, আমাদের কি যন্তরে হাত দেওয়া লাজে ?