পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৫০

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


WOe विकूडि-ब्रध्नांबनौ ংসার করতে হয় তাই করে। —দেখতে কে ভালো ? -वफ़ट्यो । এমন সময় ভূষণ দা নিজে এসে জানালে আসর তৈরী হয়েচে, আমি যেন এখুনি ধাই। নেপাল প্রামাণিক বললে—ডাক্তারবাবু, আপনার খাবার কি ব্যবস্থা হবে ? • —খেমটা দেখে চলে যাবো বাড়ীতে। গিয়ে খাবো । —খেমটা ভাঙ্গতে রাত একটা । আপনার বাড়ী পৌছতে রাত সাড়ে তিনটে । ততক্ষণ না খেয়ে থাকবেন ? তার চেয়ে একটা কথা বলি । —কি ? —বলতে সাহস হয় না। চলুন, আমার বাড়ী। বড় বউকে বলেই এসেচি, আমি খেতে যাবার সময় সে আপনার জন্যে পরোটা ভেজে দেবে। আর যদি না যান, আমি কলাপা২ে মুড়ে পরোটা ক’খানা এখানেই নিয়ে আসবো এখন। —ওসব দরকার নেই, আর একবার চা খেলেই আমার ঠিক হয়ে যাবে। —চাও করবে। এখন আপনার স্টোভে । তার আর ভাবনা কি ? চা যতবার খেতে চান, তাতে দুঃখ নেই! আপনি বসবেন, না, আসরে যাবেন ? আসরে গিয়ে বসলাম : নিতাই শীলের কাপড়ের দোকান ও হরি ময়রার সন্দেশ মুড়কির দোকানের পিছনে যে ফঁাকা জায়গা, ওখানটায় পাল খাটানো হয়েচে । তার তলায় বড় আসর। আসরের চারিদিকে বাশের রেলিং। চাষাভূযে লোকের জন্যে আসরের বাইরে 'शब्रभा পাতা, ভেতরে বড় শতরঞ্জি ও মাছর বিছানো । চার-পাঁচটা বড় বড় ঝাড় ও বেল ঝুলচে, দুটে হ্যাজাক লণ্ঠন। মোটের উপর বেশ আলো ফুটেচে আসরে। আমি যখন গেলুম, তখন খেমটা নাচ আরম্ভ হয়েচে। 3. একপাশে খানকতক চেয়ার বেঞ্চি পাতা, স্থানীয় বিশিষ্ট ও সন্ত্রান্ত লোকদের জন্তে । আমাকে সবাই হাত ধরে খাতির করে চেয়ারে নিয়ে গিয়ে বসালে। পাশে বসে আছে মঙ্গলগঞ্জ ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট রামহরি সরকার—পাশের গ্রামে বাড়ী, জমিজমাযুক্ত পাড়াগায়ে সম্পন্ন গৃহস্থ। পেটে ‘ক’ অক্ষর নেই, ধূৰ্ত্ত ও মামলাবাজ। তার সঙ্গে বসেচে গোবিন্দ দা, ভূষণ দ্বার জোঠতুতে ভাই—কলকাতার ক্লাইভ স্ত্রীটে রংয়ের দোকান আছে, পয়সাওয়ালা, মূর্খ ও কিছু অহঙ্কারী। সে নিজেকে কলকাতার সম্রাস্ত ব্যবসাদারদের একজন বলে গণ্য করে, এখানে পাড়াগায়ে এসে এই সব ছোট গানের আসরে ছোটখাটো ব্যবসাদারদের সঙ্গে দেমাকে নাক উচু করে বলেছে। অামায় সে চেনে, একবার ওর ছোট নাতির ঘুংড়ি-কাসির চিকিৎসা করেছিলাম এই মঙ্গলগঞ্জে আর-বারে। ওর ওপাশে বসেচে কুঁদিপুর গ্রামের আবদুল হামিদ চৌধুরী, ঐ ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ও লোকালবোর্ডের মেম্বার। আবদুল হামিদের বাড়ী একচল্লিশ গোলা ধান, এ অঞ্চলের বড় ধেনে মহাজন, দশপনেরোখানা গ্রামের কৃষক সব আবদুল হামিদের খাতক প্রজা। তার পাশে বলে আছে