পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৬২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8ર বিভূতি-রচনাবলী —তবে বাবু, কেউ ব্রাহ্মণ কেউ শৃদ্ধর হয় কেন ? —আমি জানি নে, তুমিই বলে। —কৰ্ম্মফল । আপনার স্বকৃতি ছেল আপনি ব্রাহ্মণ হয়ে জন্মেচেন, আমার পুণ্যি ছেল না, আমি শৃদ্ধর হয়ে— এ তর্কের মীমাংসা নেই, বিশেষত এদের বুঝানো আমার সম্ভব নয়, স্বতরাং চুপ করে খাওয়া শেষ করলাম । - রাত বেশি হয়েচে । নেপাল বললে—আপনি শোবেন এখানে তো ? বড়বে বলচে। —না, আমি ডিসপেনসারিতে শোবো। রাত বেশি নেই। ভোর রাত্রে নেীকো ছড়িবো । —কষ্ট করে কেন শোবেন। বড়বে আপনার জন্তি পুবির ঘরে তক্তাপোশে বিছেন পেতে রেখেচে । তখন যদি নেপাল প্রামাণিকের কথা শুনতাম, তার ভক্তিমতী, সতিলক্ষ্মী স্ত্রীর কথা শুনতাম ! তারপরে কতবার এ কথা আমার মনে হয়েছিল । কিন্তু তখন আর উপায় ছিল न1 ।। আমি নেপালের বাড়ী থেকে চলে এলাম ডাক্তারখানায় । নেপাল লণ্ঠন ধরে এগিয়ে দিয়ে গেল। ডাক্তারখানার ওদিকে বারান্দায় নৌকার মাঝিট অঘোরে ঘুমুচ্চে। আমি ঘরে ঢুকে নেপালকে বিদায় দিয়ে বিছানা পাতবার যোগাড় করচি, এমন সময় বাইরে গোবিন্দ দা আর আবদুল হামিদের গল পেলাম । আবদুল হামিদ বললে—ও ডাক্তারবাবু, আলো জালুন—যুমুলেন নাকি ? বললাম—কি ব্যাপার ? o নিশ্চয়ই এরা চা খেতে এসেচে। কিন্তু এত রাত্রে আমি দুধ পাই কোথায় যে ওদের জন্যে চা করি আবার ? বিপন্ন মুখে দোর খুলে ওদের পাশের ঘরে বসিয়ে শোয়ার ঘর থেকে লণ্ঠন নিয়ে ডিসপেনসারি ঘরে ঢুকেই আমি দেখলাম একটি মেয়ে ওদের সঙ্গে। স্বভাবতই আমার মনে হোল কারো অস্কখ করেচে ; নইলে এত রাত্রে ওরা দুজনে ডিসপেনসারিতে আসবে কেন ? ব্যস্ত স্বরে বললাম—কি হয়েচে বলে তো ? কে মেয়েটি ? গোবিন্দ দা বললে—বস্কন, ডাক্তারবাবু, বসুন—কথা আছে। —কে বলে তো, ও মেয়েটি ? আবদুল হামিদ দাত বের করে হেসে বললে—আপনার রুগী। দেখুন তো— সেই কিশোরী নর্তকীটি। আমার মাথা যেন বিম কিম করে উঠলো। মেয়েটির সলজ দৃষ্টি মাটির দিকে নামানো। মনে হোল, ওর কপাল থেমে উঠচে ক্লাস্তিতে ও সকরুণ कूéांग्र ।