পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৬৪

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


88 বিভূতি-রচনাবলী মেয়েটি আমার মুখের দিকে স্থিরদৃষ্টিতে চেয়ে বললে—আপনি ডাক্তারবাৰু ? অদ্ভুত প্রশ্ন। এতটুকু মেয়ের মুখে। গম্ভীর মুখে বলবার চেষ্টা করলাম—তবে এখানে কি জন্য এসেচ ? দেখতেই তো পাচ্চ । আশ্চর্য্যের উপর আশ্চৰ্য্য। মেয়েটি ফিক্‌ করে হেসে ফেলে পরক্ষণেই লজ্জায় মুখখানি নীচু করে আঁচল চাপা দিলে—আঁচল-চাপা মুখ আমার দিকে তুলে আবার ফ্রিকৃ. করে হেসে উঠলো। সে এক অদ্ভূত ভঙ্গি, সে ভঙ্গির অপূৰ্ব্ব লাবণ্য আমার বর্ণনা করবার শক্তি নেই। আমার বুদ্ধি যেন লোপ পাবার উপক্রম হোল—এমন ধরনের মেয়ে আমি কখনও দেখি নি। মেয়ে দেখেছি স্বরবালাকে-শাস্ত, সংযত ভদ্র বড় জোর ; দেখেচি শাস্তিকে । না হয় নির্জন রাস্তায় অবসর খুঁজে কথা বলে, তাও দরকারী কথা, নিজের গরজে। এমন সাবলীল ভঙ্গি তাদের সাধ্যের বাইরে । তাদের দেহে হয় না, জন্মায় না । ছেলেমানুষ নারী বটে, কিন্তু সত্যিকার নারী। বললাম—হাসচো কেন ! কি হয়েচে ? —মাথা ধরেচে। অমুখ হয়েচে । —মিথ্যে কথা । —উছ-ই ! ভারী ডাক্তার আপনি ! যেন কত কালের পরিচয় । কোনো সঙ্কোচের বালাই নেই। ওর সামনের চেয়ারে বসে ওর হাত ধরলাম । ও হাত টেনে নিলে না। নির্জন ঘরে ও আর আমি। রাত একটা কিংবা দুটো । কে জানে, কে-ই বা খবর রাখে। আমার মনে হোল জগতে ঐ মেয়েটি আমার সামনে বসে আছে যুগ যুগ ধরে। সারা বিশ্বে ছুটি মাত্র প্রাণী—ও আর আমি । আমি বললাম—তোমার নাম কি ? —কি দরকার আপনার সে খোজে ? —তবে এখানে এসেচ কেন ? —ওষুধ দিন। হাতটা ধরেই রইলেন যে, দেখুন না হাত। —কিছুই নয় নি তোমার। {ን —না, সত্যি আমার মাথা ধরেছিল। —এখন আর নেই। —কি করে বুঝলেন ? —তুমি একটি দুষ্ট্র বালিকা। কত বয়েস তোমার ? পনেরো না ষোলো । —জানি নে । আমি ওর হাত ছেড়ে দিয়ে দাড়িয়ে উঠে বললাম—তলে, এখুনি যাও। ওর মুখ থেকে হালি মিলিয়ে গেল। আমার গলার স্বর বোধ হয় একটু কড়া হয়ে পড়েছিল। ভীরু চোখে আমার দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে বললে—য়াগ করলেন ? না, না রাগ