পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৬৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8b" बिङ्गडि-ब्रव्नांबजौ স্রোত বয়ে গেল। পান্না খাটি নারী, আমি এতদিন নারী দেখি নি। ওদের চিনতাম না। আজ বুঝলাম ওকে দেখে । পান্না আজ আমার ডাক্তারখানায় কেন এসেছিল ? ওষুধ নিতে নয়। না, ওষুধ নিতে ? কিছুই বুঝলাম না ওর কাণ্ড । অস্থখ কিছু ছিল না, মাথা ধরতে পারে হয়তো। কিন্তু যদি এমন হয়, ও ওষুধ নেবার ছল করে এসেছিল অভিসারে আমার কাছে ? কিন্তু আবদুল হামিদ আর গোবিন্দ র্দী সঙ্গে কেন ? না:, কিছুষ্ট পরিষ্কার হল না। আচ্ছা, যদি সত্যিই ও অভিসারে এসেছিল এমন হয় ? কথাটা ভাবতে আমার দেহমনে আবার যেন বিদ্যুতের শিহরণ বয়ে গেল। তাও কি সম্ভব ? অামার বয়েস পয়ত্রিশ, পান্না ষোল বছরের কিশোরী। অসম্ভব কি খুব ? তবে এমন অনেক ঘটনার কথা জানি যেখানে এর চেয়েও বেশি বয়সে কিশোরীর প্রেম লাভ করেছিল, সে সব••• আমার মত গেয়ে ডাক্তারের অদৃষ্টে কি ওসব সম্ভব হবে ? যা নাটক নভেলে পড়েছি, তা হবে আমার জীবনে মঙ্গলগঞ্জের মত অজ পাড়াগায়ে ? মাথার মধ্যে কেমন নেশা.উঠে নদীর জল চোখে মুখে দিলাম। আমার শরীরের অবস্থা যেন মাতালের মত। মাঝি বললে—ডাক্তারবাবু, ঘুমোন নি ? বললাম—না বাপু, মাথা গবম হয়ে গিয়েচে না ঘুমিয়ে। —চলুন বাবু, বাড়ী গিয়ে খেয়ে দেয়ে ঘুম দেবেন এখন। আমি তখন ভাবছি, এসে ভুল করেছি। না এলেই হোত । যদি এমন কিছু ঘটে বাড়ী গিয়ে, কাল সন্দেবেলা মঙ্গলগঞ্জে আসা না ঘটে ? পান্নার সঙ্গে আর দেখা হবে না, ও চলে যাবে কলকাতায় । তা হবে না, অমন ভাবে পান্নাকে আমি হারাতে রাজী নই। বাড়ী এসে স্নান করে একটু মিছরির শরবৎ খেয়ে বৈঠকখানায় গিয়ে বসেছি, এমন সময় বড় মুখুয্যের ছেলে হারান এসে বললে—শশাঙ্কদী, একবার আমাদের বাড়ী যেতে হচ্ছে— —কেন হে, এত সকালে ? —জামাই এসেচেন, একটু চা খাবে তার সঙ্গে সকালে । —মাপ করে। ভাই, কাল সারারাত ঘুমুই নি। মঙ্গলগঞ্জে শক্ত কেস ছিল— —ভালো কথা, হ্যা হে, মঙ্গলগঞ্জে নাকি বারোয়ারিতে ভালো খেমটা নাচ হচ্চে, কে যেন বলছিল— • আমার বুকের ভেতরটা যেন ধড়াস করে উঠলো। জিব শুকিয়ে গেল হঠাৎ । এর কারণ কিছু নয়, মঙ্গলগঞ্জের কথা উঠতেই পান্নার মুখ মনে পড়লো-ওর হাসি”সেই অপূৰ্ব্ব লীলায়িত ভঙ্গি মনে পড়ে গেল•••