পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৭২

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


6२ বিভূতি-রচনাবলী —তুমি থামো না! আমার ব্যবসা আমি ভালো বুঝি। এমন সময় নেপাল প্রামাণিক এসে হাত জোড় করে বললে—একটা অনুরোধ। বড়বে। বিশেষ করে ধরেচে, যাও ডাক্তারবাবুকে নিয়ে এসো। রাত্তিরে যদি এখানে থাকতে হয়, তবে চলুন আমার কুটিরে। একটু কিছু খেয়ে আসবেন। বেশ লোক এই নেপাল ও তার স্ত্রী । কিন্তু আজ আমার যাওয়ার তত ইচ্ছে ছিল না, গোবিন্দ দা বললে—যান না, নাচ শুরু হলে সেই দশটায়। হ্যা, নেপালদা, বলি আমাদের মত গরীব লোকের কি জায়গা হয় না তোমাদের বাড়ী ? নেপাল ব্যস্ত সমস্ত হয়ে বললে—হ্যা, ই্যা, চলো না, চলো । আমরা সবাই মিলে নেপালের বাড়ী এসে চ খেলাম ; চায়ের সঙ্গে চি ড়ে ভাজা ও নারকোল কোর । একটু পরে গোবিন্দ দা উঠে চলে গেল। আমি একাই বসে আছি ; এমন সময়ে গোপিন্দ দা আবার এল, আমায় বললে—একটু পাইরে অস্বিন। —কি ? : —আপনি সেই যে লোকটাকে ডাক্তার নেই বলে দিয়েছিলেন, সে কে জানেন ? সে হোল ওদের খেমটার দলের লোক । আপনি আসবেন না শুনে পান্নার মন ভারী খারাপ হয়েছে । —চুপ চুপ। এখানে কি ওসব কথা ? কে বললে তোমায় ? —আরে গরীবের কথাটাই শুকুন। তিনি নিজেই আমাকে এই মাত্তর ডেকে বললেন —ডাক্তারবাবু এসেছেন কি না। দেখে আসচি বলে তাই চলে এলাম আপনার কাছে। এখন একটা মজা করা যাক। আমি গিয়ে বলি আপনি আসেন নি। —তারপর ? —তারপর আপনি হঠাৎ আসরে গিয়ে পমে প্যাল দিতে যাবেন । বেশ মজা হবে । কেমন ? —না, ও অামার ভালো লাগে না । ও করে কি হবে ? —করুন, করুন। আপনার হাতে ধরচি । —বেশ, যাও, তাই হবে। নেপালের ভক্তিমতী স্ত্রী খুব যত্ন করে আমাকে খাওয়ালে। বড় ভালো মেয়ে। সামনে বসে কখনো কথা বলে না, কিন্তু আড়াল থেকে সব স্বর্থ-সুবিধে দেখে, গরম গরম লুচি এক একখানা করে ভেজে পাতে দেওয়া, দুধ গরম আছে কিনা দেখা, সব বিষয় নজর । দুদিন এখানে খেলাম, প্রতিদানে কি দেওয়া যায় তাই ভাবছি। একটা কিছু করা দরকার। আহারাদির ঘণ্ট। দুই পরে আসর বসলো। আমাকে গোবিন্দ দা ডাকতে এল । ওর সঙ্গে গিয়ে আসরে বসলাম । একটু পরে পান্না ও তার সঙ্গিনী সাজসজ্জা করে আসরে ঢুকলো। আমি লক্ষ্য করে দেখচি, পাল্লা এসেই আসরের চারিদিকে একবার দেখলে। আমি বসেচি আবদুল হামিদের