পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৭৫

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


अर्टश अण &¢ —এলাম এমনি । বলেই ও একটু হেসে আবার মুখ নিচু করে মেঝের দিকে চাইলে । বললাম—তুমি কি করে জানলে আমি এখানে ? —আমি জানি । —জানো মানে কি ? কে বলেচে ? ও ছেলেমানুষের মত দুষ্টুমির হাসি হেসে বললে—বলব না। আমি রাগের স্বরে বললাম—তুমি না বললেও আমি জানি। আবদুল হামিদ, না হয় গোবিন্দ দা । পান্না এবার আমার দিকে পূর্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে দৃঢ়স্বরে বললে—না। ও সত্যি কথা বলচে আমার মনে হল। কৌতুহলের স্বরে বললাম—তলে কে আমি জানতে চাই । পান্না মুষ্টিপদ্ধ হাতে নিজের বুকে একটা ঘুষি মেরে বললে—এই ! —কি এই ? —এইখানে জানতে পারে ! হঠাৎ কেমন একটা অদ্ভুত দৃষ্টিতে আমার মুখের দিকে চেয়ে বললে—আপনি তা বুঝবেন না। বলেই আবার ও মুখ নিচু করে মেজের দিকে চাইলে । এবার শুধু মুখ নিচু নয় ঘাড় স্বদ্ধ, নিচু। সে এক অদ্ভূত ভঙ্গি। ওর অতি চমৎকার স্বভোল লাবণ্যময় গ্রীবাদেশে সরু সোনার হার চিক চিক্‌ করচে, এলানো নামানো খোপা থেকে হেলা গোছা চুল এসে । ঘাড়ের নিচের দিকে ব্লাউজের কাপড়ে ঠেকেচে । ওর মুখ দেখতে পাচ্চি নে—মনে হচ্চে এক অপূৰ্ব্ব সুন্দরী লাবণ্যবতী কিশোরী আমার সামনে। ধরা দেবার সমস্ত লক্ষণ ওর ঘাড় নিচু করার ভঙ্গির মধ্যে স্থপরিস্ফুট। অল্পক্ষণের জন্যে নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ে ফেললাম, কি হোত এ অবস্থা বেশিক্ষণ স্থায়ী হলে, মানে আর কিছুক্ষণ স্থায়ী হলে, তা আমি বলতে পারি - নে, সে সময় আমার মনে পড়লে নেপাল মশারি নিয়ে যেকোনো সময়ে এসে পড়তে পারে। আমি ব্যস্তভাবে ওর হাত ধরে চেয়ার থেকে জোর করে উঠিয়ে বললাম—তুমি । এক্ষুনি চলে যাও— 象 彰 ও একটু ভয় পেয়ে গেল। বিস্ময়ের স্বরে বললে—এখুনি যাবো ? —ই্যা হ্যা, এখুনি। —আমায় তাড়িয়ে দিচ্চেন ? —এখুনি নেপাল আসবে মশারি নিয়ে। ওর বাড়ী থেকে মশারি আনতে গেল আমার জন্যে । - পান্নার চোখে ভয় ও না-বোঝার দৃষ্টিট চকিতে কেটে গেল। ব্যাপারটা তখন ও বুঝতে পেরেচে। বললে—আপনি আসরে চলুন । I ! . . * * —না । - -