পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৭৮

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


άιν বিভূতি-রচনাবলী আমি বললাম—এ ক’দিনে যে অনেক টাকা প্যাল দিলে আবদুল— আবদুল হামিদ বললে—টাকা দিয়ে মুখ এখানে, কি বলেন ডাক্তারবাৰু? কত টাকা তো কতদিকে যাচ্ছে । —সে তো বটেই, টাকা ধন্ত হয়ে গেল । —ঠাট্টা করচেন বুঝি ? আপনিও তো টাকা দিয়েচেন । —কেন দেবো না ? —তবে আমাকে যে বলচেন বড় ? —কিছু বলচি নে। যা খুশি করতে পারো। গোবিন্দ দা বললে—ওসব কথা বোলো না ডাক্তারবাবুকে । উনি অন্য ধাতের লোক । রসের ফোটাও নেই ওঁর মধ্যে । আবদুল একচোট হো হো করে হেসে নিয়ে বললে—ঠিক কথা দা মশায়। অথচ বয়সে আমাদের চেয়ে ছোট। আমাদের এ বয়সে যা আছে, ওঁর তাও নেই। আমি কাউকে কিছু না বলে ডিসপেনসারিতে চলে গেলাম। মাঝিটা অধোরে ঘুমুচ্চে । তাকে আর ওঠালাম না। নিজেরও ঘুম পেয়েচে, কিন্তু সমস্ত ব্যাপারটা আমার মাথার মধ্যে এমন একটা গোলমালের স্বষ্টি করেচে ষে ঘুম প্রায় অসম্ভব। আমি ব্যাপারটাকে ভালো করে ভেবে দেখবার অবকাশ পেয়ে ও পাচ্ছিনে | মন এখান থেকে একটা ভালো টুকরো, ওখান থেকে আর এক টুকরো নিয়ে আস্বাদ করেই মশগুল, সমস্ত জিনিসটা ভেবে দেখবার তার সময় নেই । - এমন সময় দোরে:মুদ্র ঘা পড়লো। আমার বুকের মধ্যে যেন টেকির পাড় পড়লো সঙ্গে সঙ্গে। আমি বুঝেচি কে এত রাত্রে দরজায় ঘা দিতে পারে। পাল্লার গায়ে একখানা সিস্কের চাদর । খোপা এলিয়ে কাধের ওপর পড়েচে ; চোখ দুটোতে উত্তেজনা ও উদ্বেগের দৃষ্টি । সে যেন আশা করে নি আমায় এখন দেখতে পাবে। দেখে যেন আশ্বস্ত হয়েচে । ওর কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। यांशितव्लव्लांश-कि ? i পান্না চেয়ার ধরে দাড়িয়ে ছিল, একবার ঘরের এদিক ওদিক চেয়ে দেখলে, বললে— এলাম আপনার এখানে । *., —তা তো দেখতে পাচ্ছি, কি মনে করে ? —দেখতে এসেছি, মাইরি বলছি। —বেশ । দেখে চলে যাও— —তাড়িয়ে দিচ্চেন ? 一转711 —আপনি বড় নিষ্ঠুর, সত্যি— আমি হেসে ফেললাম। বললাম—আমি না তুমি ? তুমি জান এখানে আসা কত অন্যায় ?