পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৮৩

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


अटैथ छल ©0 —যাই নি বলেই আজ আরও বেশি করে খবর পাঠানো দরকার। গোবিন্দ দা বললে—আমি সাইকেলে লোক পাঠাচ্চি এক্ষুনি । সব ঠিকঠাক হল । ওদের রুচিমত ওদের পিকনিক হবে, এতে আমার মতামতের কোন স্থান নেই, মূল্যও নেই। কিন্তু আমি ঘোর আপত্তি জানালাম যখন বুঝতে পারলাম যে ওদের নিতান্ত ইচ্ছে, পান্নাকে নিয়ে যাবে আমার নৌকো করে পিকনিকের মাঠে। ওরাও নাছোড়বান্দা। আমি শেষে বললাম, ওরা নিয়ে যেতে চায় পায়াকে খুব ভালো, আমি যাবো না সেখানে । গোবিন্দ দা বললে—কেন এতে আপত্তি করচেন ডাক্তারবাবু ? —না। তোমরা পান্নাকে পিকনিকৃ-সহচরী করতে চাও—ভালো। আমাকে বাদ দাও । 莹= —সে কি হয় ডাক্তারবাৰু ? তবে পান্নাকে বাদ দেওয়া যাক, কি বল প্রেসিডেন্ট সাহেব ? প্রেসিডেন্ট আবস্থল হামিদ ( নসরাপুর ইউনিয়ন বোর্ডের ) একগাল অমায়িক হাসি হেসে বললে—ন, ও পান্না টান্নাকে বাদ দিতে পারি, কিন্তু ডাক্তারবাবুকে— কক্ষনো না । আমি কৃতাৰ্থ হই । যথারীতি ওদের স্কুলকুচি অনুযায়ী বনভোজন সম্পন্ন হয়। সন্ধ্যার আগে ওরা তাড়াতাড়ি ফিরলে আসরে যাবে বলে। আমি গেলুম ওদের সঙ্গে। সেই রাত্রে পান্না আবার আমার ডাক্তারখানায় এসে হাজির ৷ আমি জানতাম ও ঠিক আসবে, মনে মনে ওর প্রতীক্ষা করি নি এ কথা বললে মিথ্যে কথা বলা হবে । আমার সমস্ত মনপ্রাণ ওর উপস্থিত কামনা করেনি কি ? ও এসেই হাসিমুখে সহজ স্বরে বলবুে—আসরে যাওয়া হয় নি যে বড় ? অদ্ভুতভাবে দুষ্ট মেয়ের মত চোখ নাচিয়ে ও প্রশ্নটা করলে। এখন যেন ও আমাকে আর সমীহ করে না। আমার খুব কাছে যেন এসে গিয়েচে ও যেন কতদিনের বন্ধুত্ব ওর সঙ্গে, কতকাল থেকে আমাকে চেনে । বললাম বসো । ও গালে হাত দিয়ে কৃত্রিম বিস্ময়ের স্বরে বলল—ওমা, কি ভাগ্যি! আমাকে আবার বসতে বলা ! কক্ষনে তো শুনি নি। আমি হেসে বললাম—ক’দিন তোমার সঙ্গে আলাপ, পান্না ? এর মধ্যে বসতে বলবার অবকাশই বা ক'বার ঘটলো ? —ভালো, ভালো। আবার নাম ধরেও ডাকা হলো ! ওমা, কার মুখ দেখে না জানি আজ উঠেছিলুম, রোজ রোজ তার মুখই দেখবো। —মতলব কি এটে এসেচ বল দিকি ? পান্না হাসিমুখে ঘাড় একদিকে ঈষৎ হেলিয়ে আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে চেয়ে বললে— ভয়ে বলবো, না নিৰ্ভয়ে বলবো ?