পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৮৬

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


அமூ বিভূতি-রচনাবলী রোজগার করতে পারবে না । পায় যদি তখন বলতে, খাবো কি?—তবে আমার নেশা কেটে যেতো, শূন্য থেকে আছাড় খেয়ে মাটিতে পড়ে যেতাম তখুনি। কিন্তু পান্নার মুখ দিয়ে সে কথা বেরুলো না। সে ঘাড় দুলিয়ে বললে—এবং বললে অতি অদ্ভুত কথা, অদ্ভুত স্বরে ; বললে—তুমি আর আমি একা থাকবে। যেখানে নিয়ে যেতে ইচ্ছে হয়—মুজরো করতে দাও কমবে, না করতে দাও, তুমি যা করতে বলবে করবে।— আমি তখন নিষ্ঠুর হয়ে উঠেচি, প্রেমের ও মোহের নিষ্ঠুরতায়-ওর মুখে ‘তুমি’ সম্বোধনে। আমি বলি—যদি গাছতলায় রাখি ? না খেতে দিই ? —মেরে ফেলো আমাকে । তোমার হাতে মেরে । টু শব্দটি যদি করি তবে বালে৷ পান্ন। খারাপ মেয়ে ছিল । —তোমার আত্মীয় স্বজন ? —কেউ নেই আমার আত্মীয় স্বজন । —তোমার মা নেই ? পান্না তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে ঠোট উলটে দুর্দান্ত বিদ্রোহের কুরে বললে—ভারী মা ! —বেশ চলো তবে । ষা হয় হবে। আমি কিন্তু পয়সা নিয়ে বার হই নি, তা তুমি জানো । —আবার ওই কথা ? বেলা তিনটের সময় ট্রেন শেয়ালদ’ পৌছুলে স্টেশন থেকে সোজা একখানা ঘোড়ার গাড়ী ভাড়া করে ভবানীপুর অঞ্চলের এক ক্ষুদ্র গলিতে পান্নার বাসায় গিয়ে ওঠা গেল। রাত্রে আমার ভাল ঘুম হল না। আমি এমন জায়গায় কখনো রাত কাটাই নি। পল্লীট খুব ভালো শ্রেণীর নয়, লোক যে না ঘুমিয়ে সারা, রাত ধরে গান বাজনা করে, এও আমার জান ছিল না। সকালে উঠে পান্নাকে বললাম--পান্না, আমি এখানে থাকবে না । পান্না বিস্ময়ের স্বরে বললে—কেন ? —এখানে মানুষ থাকে ? —চিরকাল তো এখানে কাটালুম। —তুমি পারে, আমার কৰ্ম্ম নয়। —আমি কি করবো তুমিই বলে। আমার কি উপায় আছে ? আমি এ কথার উত্তর দিলাম না। একটু পরে বেলা হলে এক প্রৌঢ় ঘরে ঢুকে আমার দিকে ছু-একবার চেয়ে দেখে আবার চলে গেল। পান্না কোথায় গেল তাও জানি নে, একাই অনেকক্ষণ বসে রইলাম । বেলা ন’টার সময় প্রৌঢ়াটি আবার ঘরে ঢুকে আমায় বললে—আপনার বাড়ী কোথায় ? এ প্রশ্ন আমার ভালো লাগলো না। বললাম—কেন ?