পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


|メe ছাড়া অন্ত ব্যবসায়ের স্বযোগ-স্ববিধা । ব্যবসায় করতেই এসেছিল গায়ের আড়তদার, পাটব্যবসায়ী গদাধর। কলকাতায় এসে নিজে ব্যবসায় কাজকর্মেই সর্বদা ব্যস্ত থাকে, শৌধীন প্রকৃতির লোক সে নয়। বেশ কিছুদিন কলকাতায় এসে গেলেও শহরের আমোদ-প্রমোদের কথা একদিনও মনে হয়নি। একদিন এক বন্ধুর (এই বন্ধুটি দেবদাসের চুনির মতোই পাপপথের প্রদর্শক। ) পীড়াপীড়িতে বায়োস্কোপ দেখতে যায় বাংলা ছবি—‘প্রতিদান’ । বলা বাহুল্য, ছবিটা তার খুব ভাল লাগল, কারণ অনেক কাল সে কোন থিয়েটার-বায়োস্কোপ দেখেনি। বিশেষ করে বাংলা ছবি যে এত চমৎকার হয়ে উঠেছে, এতকাল সে খবর সে রাখে নি। সে জানত না যে বন্ধু চা খাওয়াবার নাম করে সেদিন তাকে যেখানে নিয়ে গিয়েছিল সেটা বিখ্যাত ফিল্মস্টার শোভারাণী মিত্রের বাড়ি । এই মাত্র যে “প্রতিদান” ছবি দেখে এলো, তার নায়িকা এই শোভারানা। এই শোভারানী তাকে ঘরে বসিয়ে কেবল নিজে হাতে চা দিলে না, গান গেয়ে শোনালে, তার ছবিটা কেমন লেগেছে জিজ্ঞাসাও করলে। এতেই গদাধর সঙ্কুচিত ও অভিভূত হয়ে পড়ল। এ ধরনের শিক্ষিতা স্বন্দরী মহিলার সঙ্গে কথা বলার সৌভাগ্য ঘট। দূরে থাক, এর আগে কখনো চোখেও দেখে নি এমন মহিলা । গদাধরের ধারণ শোভারানী খুব শিক্ষিতা। এত সব ভাল ভাল কথা যে মুখ দিয়ে বলতে পারে, এইমাত্র প্রতিদান’ ছবিতে যা দেখে ও শুনে এলো, সে নিশ্চিত শিক্ষিতা । সেদিন বাড়িতে ফিরে প্রথম মনে হ’ল, অনঙ্গ তাকে “কিন্তু কি ঠকাই ঠকাইয়াছে এতদিন ! সত্যিকার মেয়ে বলিতে যা বোঝায় তা তিনি এইমাত্র দেখিয়া আসিলেন।” অনেক রাত পর্যস্ত তার চোখে ঘুম এলো না । মনে হয় “জীবনটা তার বৃথা গেল । মেকী লইয়া কাটাইলেন, আসল নারী কি বস্তু তাহা কোনদিনও চিনিলেন না।” ক্রমশ শোভারানীর সঙ্গে গদাধরের পরিচয় যত ঘনিষ্ঠ হয়, স্ত্রীর কোন কথাই আর আগের মত ভাল লাগে না। • মনে হয় “সেই পুরনো অনঙ্গ ! এসব জাতীয় মেয়েদের মুখে অন্য কথা নেই—কেবলখাওয়া আর খাওয়া ! কি কথাই বা জানা আছে যে বলিবে ।” সংসারও হঠাৎ তার কাছে নিতান্ত বিস্বাদ মনে হয় । “অনঙ্গ আধময়লা একখানা শাড়ী পরিয়া আছে, মাথার চুল এখনও বাধে নাই, কেমন যেন অগোছালো ভাব—তা ছাড়া ওর মুখ দেখিলে মনে হয় এই বয়সে বুড়ী হইয়া পড়িয়াছে যেন।" গঙ্গাধরের মনে হয় কিসের জন্যে এসব কাজ করে মরছে ! কার জন্তে পাটের চালানী আর ছুপুরের রোঙ্গে টে-টো করে মোকামে মোকামে ঘুরে পাটের কেনা-বেচা ? সত্যিকারের জীবনের আনন্দ কি একদিনও সে পেয়েছে ! “পুরুষমানুষের মন যা চায় নারীর কাছে অনঙ্গ কেন, কোন মেয়ের কাছেই কি এতদিন তা পাইয়াছেন । জীবনে তিনি কি দেখিলেন, কি বা পাইলেন । এই কলকাতার এটো বাসনের ভূপ, ওই আধময়লা ভিজে কাপড়ের