পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৯১

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


चंक्षं खल ꬃyo ধরনের ব্যবহার করতো না—কিন্তু পান্না যে শ্রেণীর মেয়ে, তার কাছে এ ব্যবহার পেয়ে আমি আশ্চৰ্য্য হই নি মোটেই। . . . পান্না বললে--মাংস কেমন হয়েচে ? —বেশ হয়েচে । —আমায় নিয়ে যাও এখান থেকে । —কোথায় ? —যেখানে তোমার খুশি– পরে বাকা ভুরুর নিচে আড় চাউনি দিয়ে আমার দিকে চেয়ে বললো—আমি তোমার, যেখানে নিয়ে যাবে— * সে চাউনি আমাকে কাণ্ডজ্ঞান ভুলিয়ে দিলে, আমি এটো হাতেই ওর পুপপেলব হাতথানা চেপে ধরতে গেলাম, আর ঠিক সেই সময়েই সেই বুড়ী সেখানে এসে পড়লো ! আমার দিকে কটমট চোখে চেয়ে দেখলে, কিছু বললে না মুখে । কি জানি কি বুঝলে । আমি লজ্জিত ও অপ্রতিভ হয়ে ভাতের থালার দিকে চাইলাম। কোনো রকমে দু’চার দল খেয়ে উঠে পড়ি তখুনি ! কাউকে কিছু না বলে সেই যে বেরিয়ে পড়লাম, একেবারে সোজা শেয়ালদ’ স্টেশনে এসে গাড়ী চেপে বসে দেশে রওনা । স্বরবালা আমায় দেখে অবাক হয়ে আমার দিকে চাইলে । তারপর বললে—কোথায় ছিলে ? —কলকাতায় গিয়েছিলাম, সেখান থেকে আসচি । —তা আমিও ভেবেছি। সবাই তো ভেবে-চিন্তে অস্থির, আমি ভাবলাম ঠিক কোনো দরকারি কাজ পড়েচে, কলকাতায় টলকাতায় হঠাৎ যেতে হয়েচে । একটা খবর দিয়েও তো যেতে হয় ! এমন তো কখনো করে নি ? —এমন অবস্থাও তে। এর আগে কক্ষনো হয় নি। সবাই ভালো আছে ? —তা আছে। নাও, তুমি গা হাত ধুয়ে নাও, চা করে নিয়ে আসি। খাওয়া হয়েচে । একটু পরে স্বরবালা চা করে নিয়ে এল। বললে—বাবা; এমন কখনো করে ? ভেবে চিন্তে অস্থির হতে হয়েচে । সনাতনবাবু তো দু’বেলা হাটাইটি করচেন। নৌকার মাঝি ফিরে এসে বললে—বাবু, শেষ রাত্তিরে কোথায় চলে গেলেন হঠাৎ—আমাকে কিছু বলে তো খান নি-সনাতনী আবার যাবেন বলছিলেন মঙ্গলগঞ্জে খোজ নিতে। যান নি বোধ হয়— সনাতনদা ভাগ্যিস মঙ্গলগঞ্জে যায় নি। সেখানে গেলেই সব বলে দিতো গোবিন্দ দা বা আবদুল হামিদ। এখনও ওরা অবিপ্তি জানে না, আমি বাড়ী চলে এসেছিলাম না কলকাতায় গিয়েছিলাম। সনাতনদ অনুসন্ধান করতে গেলেই ওরা বুঝতে পারতো আমি পান্নার সঙ্গেই চলে গিয়েছি।