পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৯৭

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


अर्टेथ छण ፃፃ ভালো কথা বল্প বাছা তা তোমার কানে গেল না। তুমি বাপু কি রকম ভঙ্গর মোক ? বয়েস দেখে মনে হয় নিতাস্ত তুমি কচি খোকাটি তো নও—এখানে এলেই পয়সা খরচ করতে হয় বলি জানো সে কথা ? বলি এনেচ কত টাকা সঙ্গে করে । ফতুর হয়ে যাবে বলে দিচ্চি। শহরে বাৰুদের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে টাকা খরচ করতে গিয়ে একেবারে ফতুর হয়ে যাবে, এখনো ভালোয় ভালোয় বাড়ী চলে যাও— —যাবোই তো। থাকতে আসি নি। —সে কথা ভালো। তবে এত ঘন ঘন এখানে না-ই বা এলে বাপু ও ছুড়িকেও তো বাইরে যেতে হবে, তোমার সঙ্গে জোড়-পায়রা হয়ে বসে থাকলে তো ওর চলবে না। এমন সময় পান্না খাবারের রেকবি ও চায়ের পেয়ালা হাতে ঘরে ঢুকে বললে—কি মাসী, কি বলচো ওঁকে ? যাও এখন ঘর থেকে— বৃদ্ধা আমার দিক থেকে ওর দিকে ফিরে বললে—ষ্ঠাখ পাহ, বাড়াবাড়ি কোন বিষয়ে ভালো না । দু’জনকেই হিত কথা শোনাচ্চি বাপু,—কষ্ট পেতে আমার কি, তোরা দুজনেই পাবি— পান্না ব্যঙ্গের স্বরে বললে—তুমি এখন যাবে একটু এ ঘর থেকে ? ওঁকে এখন বোকো না । সমস্ত রাত ওঁর খাওয়া হয় নি জানো ? বুড়ী বললে—বেশ তো, আমি কি বল্প খেয়ে না, মেখে না, খাও দাও, তারপর সরে পড়ে— —তুমি এবার সরে পড়ে দিকি মাসী, দেখি— বুড়া গজ গজ করতে করতে চলে গেল। পান্না আমার সামনে এসে রেকাব নামাল, তাতে একটুখানি হালুয়া ছাড়া অন্য কিছু নেই। এই অবস্থায় স্বরবালা কত কি খাওয়াতো। পান্নার মত মেয়েরা সেদিক থেকে বডড অর্নাড়ি, খাওয়াতে জানে না । আমার খাওয়ার সময়ে পান্না নিজেই বললে—বুড়ী বড় খিটখিট করে, না ? চলে। আজ দু’জনে কালীঘাট ঘুরে আসি, কি কোথাও দেখে আসি— আমি আকাশের চাদ হাতে পেলাম যেন। ব্যগ্রভাবে বলি—যাবে তুমি ? কখন যাবে? উনি বকবেন না ? যেতে দেবেন তোমাকে ? পান্না হেসে লুটিয়ে পড়ে বললে—আহা, কথার কি ছিরি ! ওই জন্যেই তো—হি-হি-হি —যাবে তুমি ? কখন যাবে ? হি-হি-হি— এই তো অনুপমা পান্না, অদ্বিতীয়া পান্না, হাস্যলান্তময়ী আসল পান্না, হাজারো মেয়ের ভিড়ের মধ্যে থেকে যাকে বেছে নেওয়া যায়। এমন একটি মেয়ের চোখে তো পড়ি নি কোনদিন। মন খুশিতে ভরে উঠলো, স্বার দেখা পেয়েচি, যে আমাকে ভালোবেসেচে পথে ঘাটে দেখা মেলে না তার | না। পান্না ষে আমাকে ভালোবাসে, এ সম্বন্ধে আমি তত নিশ্চিত ছিলাম না। ওর