পাতা:বিভূতি রচনাবলী (একাদশ খণ্ড).djvu/৯৯

উইকিসংকলন থেকে
পরিভ্রমণে ঝাঁপ দিন অনুসন্ধানে ঝাঁপ দিন
এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


अप्रैथ छण Գֆ ট্রাম থেকে নেমে পড়লাম । পেছন দিকে চেয়ে দেখি আমার মেডিকেল কলেজের সহপাঠী করালী। অনেক দিন দেখা হয় নি, দেখে আনন্দ হল। ওর সঙ্গে পুরানো কথাবাৰ্ত্তায় অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলাম। করালী ডায়মগুহারবারের কাছে কি একটা গ্রামে প্রাকৃটিস করচে। অামায় বললে, চল একটু চা খাই কোনো দোকানে । —বেশ, চলো । আমার চা খাবার বিশেষ কোন ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু আমার প্রয়োজন ছিল স্বাভাবিক কথাবাৰ্ত্তীর মধ্যে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা। আমি বুঝতে পেরেছিলাম স্বাভাবিক অবস্থায় আমি আদৌ নেই। করালী গ্রাম্য প্রাকৃটিসের অনেক গল্প করলে। দু’একটা শক্ত কেসের কথা বললে । আমি একমনে বসে শুনছিলাম। করালীকে বললাম—অমনি একটা নিরিবিলি গ্রামের ঠিকানা আমায় দিতে পারিস ? —কেন রে ? —আমি প্রাকৃটিস করবো তোর মত । —কেন তুই তো গ্রামেই বসেছিলি—তাই না ? চাকরি নিয়েচিম নাকি ? —জায়গাটা বদলাবো । —বদলাবি বটে কিন্তু একটা কথা বলি। ডায়মণ্ডহারবার অঞ্চলে ম্যালেরিয়া নেই গ্রামে বেশি পয়সা হবে না । —যা হয় । —আমি দেখবো খোজ করে। তোর ঠিকানাটা দে আমাকে । —তোর ঠিকানাটা দে, আমি বরং তোকে আগে চিঠি দেবো । করালী বিদায় নিয়ে চলে গেল । ./ আমি পাল্লার বাড়ীতেই চললাম সোজা । ওর ঘরের বাইরে একটা কাঠের বেঞ্চি আছে, বেঞ্চিটার ঠিক ওপরেই দেওয়ালে একটা পুরানো সস্তা খেলে ক্লকঘড়ি। ঘরের মধ্যে ঢোকবার সাহস আমার কুলালো না, ঘড়ির নীচে বেঞ্চিখানাতে বসে পড়লাম। অনেকক্ষপ পরে পান্নাই প্রথম এল ওদিকের একটা ঘর থেকে । আমায় দেখে অবাক হয়ে বললে—এ কি ! বললাম—চুপ, চুপ। আঙুল দিয়ে দেখিয়ে বললাম—কোথায় ? পান্না হেসে বললে—কে ? মাসী । হরিসংকীৰ্ত্তন না কথকতা কি হচ্ছে গলির মোড়ে, তাই শুনতে গিয়েচে ! বুড়ীর দল সবাই গিয়েচে । তাই মলিনাদের ঘরে একটু মজা করে চা অার সাড়ে বত্রিশ ভাজার মজলিশ করছিলাম। আনবো আপনার জন্যে দাড়ান— আমি ব্যস্তভাবে বললাম—শোনো, শোনো, থাক ওসব। কথা আছে তোমার সঙ্গে— পান্না যেদিক থেকে এসেছিল সেদিকে আবার যেতে যেতে বললে—বন্ধন ঠাগু হয়ে ।